গোপালপূর্বতাপনী উপনিষদে বর্ণিত আছে—
সৎপুণ্ডরীকনয়নং
মেঘাভং বৈদ্যুতাম্বরম্ ।
দ্বিভুজং
জ্ঞানমুদ্রাঢ্যং বনমালিনমীশ্বরম্ ॥
— বিকসিত শ্বেতপদ্মসদৃশ
যাঁহার নয়ন, মেঘের ন্যায় যাঁহার বর্ণ, যাঁহার বস্ত্র বিদ্যুতের ন্যায় উজ্জ্বল, যিনি দ্বিভুজ, যিনি
জ্ঞানমুদ্রার দ্বারা অলংকৃত, তিনি বনমালাবিভূষিত সকলের
ঈশ্বর।
টীকাকার
বিশ্বেশ্বর অর্থ করেন— "সৎপুণ্ডরীকনয়নং"
কি? যাঁহাকে নির্মল হৃৎকমলে লাভ করা যায়।
"মেঘাভং" কি? সচ্চিদানন্দস্বরূপ বৈদ্যুতিক আভাবিশিষ্ট
হইয়া যিনি উত্তপ্ত মনে
শান্তি প্রদান করিতেছেন। "বৈদ্যুতাম্বরম্" কি? যিনি স্বপ্রকাশ
ও চিদাকাশস্বরূপ, যাঁহাকে প্রকাশ করিতে কিছুরই আবশ্যকতা হয় না, যিনি
নিজ চিৎস্বরূপে বিদ্যুৎসম প্রকাশিত হইয়া আছেন, তিনিই পীতাম্বর, তাঁহার উজ্জ্বল পীতাম্বর সেই বিদ্যুৎসমান। জগৎসৃষ্টির
কারণ হিরণ্যগর্ভ এবং জগতের মূর্তির
হেতু বিরাটপুরুষ তাঁহার দুই হস্ত। "জ্ঞানমুদ্রাঢ্যং"
কি? যিনি "তত্ত্বমসি" রূপে সচ্চিদানন্দৈকরসাকার-মূর্তিতে প্রকাশমান।
"বনমালিনম্" কি? যিনি নির্জন
প্রদেশে স্বীয় ভক্তগণের নিকট প্রকাশমান। "ঈশ্বরম্"
কি? যিনি ব্রহ্মাদি দেবগণের
ও সকলেরই নিয়ন্তা।
তথ্যসূত্রঃ-
গোপালপূর্বতাপনীয় উপনিষদ্, শ্রীবিশ্বেশ্বর টীকা সমেত।
শ্রীশুভ
চৌধুরী
আগস্ট
২৫, রবিবার, ২০২৪ খৃষ্টাব্দ।



