Saturday, 19 November 2022

তৈত্তিরীয়োপনিষদে আচার্য্য কর্তৃক শিষ্যকে গার্হস্থ্য আশ্রমে প্রবেশের পূর্বে অনুশাসনঃ-

 


কৃষ্ণযজুর্বেদের তৈত্তিরীয় শাখার অন্তর্গত তৈত্তিরীয়োপনিষদের শিক্ষাবল্লীর একাদশ অনুবাকে বর্ণিত আছে-

বেদমনূচ্যাচার্যো অন্তেবাসিনমনুশাস্তি। সত্যং বদ।ধর্মং চর।স্বাধ্যায়ান্মা প্রমদঃ।আচার্যায় প্রিয়ং ধনমাহৃত্য প্রজাতন্তুং মা ব্যবচ্ছেৎসীঃ।সত্যান্ন প্রমদিতব্যম্।ধর্মান্ন প্রমদিতব্যম্।কুশলান্ন প্রমদিতব্যম্। ভূত্যৈ ন প্রমদিতব্যম্।স্বাধ্যায়প্রবচনাভ্যাং ন প্রমদিতব্যম্।।১।।

-স্বাধ্যায়ের জন্য নির্বাচিত অংশরূপ বেদপাঠ করাইয়া আচার্য্য শিষ্যকে অনুশাসন করিতেছেন-' সত্য বচন বলিও অর্থাৎ প্রমাণানুযায়ী জ্ঞাত ও কথনযোগ্য বিষয় বলিও। ধর্ম্ম আচরণ করিও, আর ধর্ম্ম এই শব্দ অনুষ্ঠেয় সকল কর্ম্মেরই সূচক। আর স্বাধ্যায়ে অর্থাৎ অধ্যয়নে অমনোযোগী হইও না। আচার্য্যের জন্য প্রীতিকর ধন আনিয়া অর্থাৎ বিদ্যার দক্ষিণা ধন দিয়া, আচার্য্যের অনুমতি লইয়া যোগ্যপত্নী গ্রহণপূর্বক অপত্যবংশের বিচ্ছেদ করিও না, অর্থাৎ পুত্র না জন্মিলেও পুত্রকাম্য পুত্রেষ্টি প্রভৃতি যজ্ঞকর্ম্মের দ্বারা পুত্রোৎপত্তিতে যত্ন করণীয়। সত্য হইতে বিচ্যুত হইও না, অর্থাৎ প্রমাদ শব্দের সঙ্গতার্থতাবশতঃ ভুলক্রমেও মিথ্যা বলিবে না। ধর্ম্মানুষ্ঠান করিতে হইবে, ধর্ম্ম শব্দ অনুষ্ঠেয় পৃথক পৃথক কর্ম্ম বিষয়ক বলিয়া তাহাদের অনুষ্ঠান না করাই প্রমাদ, সেই প্রমাদ করা উচিত নহে। এইরূপ স্বীয় কুশলে অর্থাৎ আত্মরক্ষা বিষয়ক কর্ম্মে অমনোযোগী হইবে না। ভূতি অর্থ সমৃদ্ধি, সেই সমৃদ্ধির নিমিত্ত ভূতি বিষয়ক মঙ্গলযুক্ত কর্ম্মে অমনোযোগী হইবে না। অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা থেকে কখনো বিচ্যুত হইবে না, অর্থাৎ পঠনপাঠন উভয়ই নিয়মপূর্বক করিবে।'১

শ্রুতিতে মাতা, পিতা, আচার্য্য ও অতিথি দেবতার ন্যায় আরাধ্যঃ-

 


কৃষ্ণযজুর্বেদের তৈত্তিরীয় শাখার অন্তর্গত তৈত্তিরীয়োপনিষদের শিক্ষাবল্লীর একাদশ অনুবাকে বর্ণিত আছে-

দেবপিতৃকার্যাভ্যাং ন প্রমদিতব্যম্। মাতৃদেবো ভব। পিতৃদেবো ভব। আচার্যদেবো ভব। অতিথিদেবো ভব। যান্যনবদ্যানি কর্মাণি তানি সেবিতব্যানি। নো ইতরাণি। য়ান্যস্মাকং সুচরিতানি। তানি ত্বয়োপাস্যানি।নো ইতরাণি।।২

আর সেইরূপ যজ্ঞাদি দেবকার্য্য ও শ্রাদ্ধতর্পানাদি পিতৃকার্য্যে অমনোযোগী হইবে না অর্থাৎ দেবকার্য্য ও পিতৃকার্য্য কর্ত্তব্য। আর মাতা, পিতা, আচার্য্য ও অতিথি ইঁহারা দেবতার ন্যায় আরাধ্য। এতদ্ভিন্ন অন্য অনিন্দিত অর্থাৎ শিষ্টাচার সম্পন্ন কর্ম্ম আছে সেইসকল তুমি করিবে। আর অপর নিন্দিত যেসকল কর্ম্ম আছে, সেইসকল কর্ম্ম শিষ্টজন করিলেও তুমি করিবে না। আমাদের অর্থাৎ আচার্য্যদের সুচরিত অর্থাৎ যেসকল বেদাদি সম্মত সদাচার আছে, পুণ্যের জন্য সেই সকল কর্ম্মই তুমি নিয়মপূর্বক অনুষ্ঠান করিবে। অপর আচরণ সকল যাহা সদাচারের বিপরীত তাহা আচার্য্যগণ কর্তৃক কৃত হইলেও তুমি করিবে না।২।

পুরাণাদি শাস্ত্রে পিতা মাতার বন্দনাঃ-

 


ভগবান শ্রীগণেশের নিকট পিতামাতা ছিলেন পূজ্য, পৃথিবী ও তীর্থস্বরূপ। শ্রীশিবপুরাণের জ্ঞানসংহিতার পঞ্চত্রিংশ ও ষটত্রিংশ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে- শ্রীগণেশ যথাবিধ স্নানাদি পূর্বক নিজ পিতামাতাকে কহিলেন-'হে পিতা,হে মাতা, আপনাদিগের পূজার্থ এই আসনদ্বয় স্থাপিত করিয়াছি'। তৎশ্রবণে জগদম্বা পার্ব্বতী ও পরমেশ্বর পূজাগ্রহণার্থে আসনে উপবেশন করিলেন। গণেশ তাঁহাদিগকে পূজা করিয়া প্রেমপূর্ণ হৃদয়ে পিতামাতাকে সপ্তবার প্রদক্ষিণ করিলেন।

শ্রীগণেশ তৎপরে কৃতাঞ্জলীপুটে কহিতে লাগিলেন-হে মাতঃ, হে পিতঃ, আপনারা শ্রবণ করুন, আমি ভ্রাতা কার্ত্তিকের পূর্ব্বেই সপ্তবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করিলাম। অতএব শীঘ্রই আমার শুভবিবাহ দিন। তখন উঁহার কহিলেন- হে পুত্র, এই অরণ্যসঙ্কুলা পৃথিবীকে তুমি কখন প্রদক্ষিণ করিলে? উহা শ্রবণে গণেশ উত্তর করিলেন- আমি যে আপনাদের পূজা করিয়া সপ্তবার প্রদক্ষিণ করিলাম, উহা কি পৃথিবী প্রদক্ষিণ নহে? ধর্ম্মপ্রবর্ত্তক বেদশাস্ত্রে ঐরূপ কথায় আছে, তবে উহা কি সত্য নহে?-'যে ব্যক্তি পিতামাতার পূজা করিয়া প্রদক্ষিণ করে তাহার পৃথিবী প্রদক্ষিণরূপ ফল হয়, ইহাতে সংশয় নাই।পিতামাতার পাদপদ্মই পুত্রের প্রধানতীর্থ, দূরে যাইলে অন্যান্য তীর্থ পাওয়া যায়, কিন্তু এই তীর্থ সমীপস্থিত, সুলভ ও ধর্ম্মের সাধন।'-বেদাদি শাস্ত্র ইহাই বলে।

গণেশবাক্য শ্রবণে হরপার্ব্বতী বিস্মিত হইলেন। অনন্তর শিব ও পার্ব্বতী গণেশকে কহিলেন- 'বৎস, তুমি যথার্থই কহিয়াছ, তুমি মহাত্মা, তোমার বুদ্ধি নির্ম্মল, বেদাদি শাস্ত্রে যাহা কথিত আছে তাহাই তুমি করিয়াছ, পিতামাতা প্রদক্ষিণ করিলে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করা হয়।'

যোগদর্শন শাস্ত্রে ওঙ্কার মাহাত্ম্যঃ-


 

পাতঞ্জল যোগসূত্রের সমাধিপাদে বর্ণিত আছে-

তস্য বাচকঃ প্রণবঃ ।।২৭।।

-প্রণব অর্থাৎ ওঙ্কার তাঁহার প্রকাশক শব্দ।

ব্যাসভাষ্যানুবাদঃ-ঈশ্বর প্রণবের বাচ্য বা বোধ্য।এই বাচ্যবাচকত্ব সম্বন্ধ কি সংকেত কৃত অথবা প্রদীপের প্রকাশের ন্যায় অবস্থিতি? এভাবে বাচ্যের ঈশ্বরের বাচকের তথা প্রণবের সঙ্গে সম্বন্ধ রয়েছে। ঈশ্বরের সংকেত কিন্তু এই শব্দে থাকা অর্থকেই প্রকাশ করে। যেমন পিতা পুত্রের সম্বন্ধ সংকেত দ্বারা, এদের শব্দ ও শব্দগত অর্থ দ্বারা প্রকাশ পায়। যেমন ইনি এঁর পিতা, ইনি এঁর পুত্র,সেভাবে। অন্যান্য উৎপন্ন বস্তুগুলিতেও এই বাচ্য-বাচক শক্তি সাপেক্ষ সম্বন্ধ রয়েছে। সদৃশ ব্যবহার পরম্পরায় নিত্যত্বহেতু শব্দার্থের সম্বন্ধও নিত্য, একথা শাস্ত্রবিদরা বলে থাকেন।

স্বামী বিবেকানন্দের ব্যাখ্যাঃ-সূত্রকার বলিতেছেন, ‘ওঙ্কার ঈশ্বরের বাচক। কেন তিনি এই শব্দটির উপর জোর দিলেন? ‘ঈশ্বর ভাবটি বুঝাইবার জন্য তো শত শত শব্দ রহিয়াছে। একটি ভাবের সহিত সহস্র সহস্র শব্দের সম্বন্ধ থাকে। ঈশ্বর-ভাবটি শত শত শব্দের সহিত সম্বন্ধ রহিয়াছে, উহার প্রত্যকটিই তো ঈশ্বরের বাচক। বেশ কথা, কিন্তু তাহা হইলেও ঐ শব্দগুলির মধ্যে একটি সাধারণ শব্দ বাহির করা চাই। ঐ বাচকগুলির একটি সাধারণ অধিষ্ঠান-সাধারণ শব্দ-ভূমি বাহির করিতে হইবে, আর যে বাচক শব্দটি সাধারণ বাচক হইবে, সেই শব্দটিই সর্বশেষ্ঠ বলিয়া পরিগণিত হইবে, আর সেইটিই সকলের প্রতিনিধিরূপে উহার যথার্থ বাচক হইবে। কোন শব্দ উচ্চারণ করিতে হইলে আমরা কন্ঠনালী ও তালুকে শব্দোচ্চারণের আধাররূপে ব্যাবহার করিয়া থাকি। এমন কি কোন শব্দ আছে, অপর সমুদয় শব্দ যাহার প্রকাশ, যাহা সর্বাপেক্ষা স্বাভাবিক শব্দ?-‘ওঁ (অউম্) এই প্রকার শব্দ; উহাই সমুদয় শব্দের ভিত্তি-স্বরূপ। উহার প্রথম অক্ষর ‘অ সমুদয় শব্দের মূল-উহাই সমুদয় শব্দের কুঞ্চিকাস্বরূপ, উহা জিহ্বা অথবা তালুর কোন অংশ স্পর্শ না করিয়াই উচ্চারিত হয়। ‘ম-বর্গীয় শব্দের শেষ শব্দ, উহার উচ্চারণ করিতে হইলে ওষ্ঠদ্বয় বন্ধ করিতে হয়। আর ‘উ এই শব্দ জিহ্বামূল হইতে মুখ-মধ্যবর্তী শব্দাধারের শেষ সীমা পর্যন্ত যেন গড়াইয়া যাইতেছে। এইরূপে ‘ওঁ শব্দটি দ্বারা সমুদয় শব্দোচ্চারণ-ব্যাপারটি প্রকাশিত হইতেছে। এই কারণে উহাই স্বাভাবিক বাচক শব্দ-উহাই ভিন্ন ভিন্ন শব্দের জননী-স্বরূপ। যত প্রকার শব্দ উচ্চারিত হইতে পারে-আমাদের ক্ষমতায় যত প্রকার শব্দ-উচ্চারণের সম্ভাবনা আছে, উহা সেই সকলেরই সূচক।

যোগবিঘ্নগুলি কি কি?

 


যোগসূত্রকার ভগবান পতঞ্জলি যোগান্তরায় গুলি বলিতেছেন-

ব্যাধিস্ত্যানসংশয়প্রমাদালস্যাবিরতিভ্রান্তিদর্শনালব্ধ-

ভূমিকাত্বানবস্থিতত্বানি চিত্তবিক্ষেপাস্তেহন্তরায়াঃ ।। (পাতঞ্জল যোগসূত্র-১/৩০)

'ব্যাসভাষ্য' অনুসারে ভাবার্থরোগব্যাধি, চিত্তের অকর্মণ্যতা অর্থাৎ মানসিক জড়তা, সংশয়, প্রমাদ (উদ্যমরাহিত্য) অর্থাৎ সমাধির সাধনের অননুষ্ঠান, আলস্য, অবিরতি বা বিষয়তৃষ্ণা, ভ্রান্তিদর্শন অর্থাৎ বিপর্যয়জ্ঞান, একাগ্রতা লাভ না করা, ঐ অবস্থা লাভ হইলেও তাহা হইতে পতিত হওয়া-এইগুলিই চিত্তবিক্ষেপকর অন্তরায়।

সন্তোষই পরম সুখঃ-

 


পাতঞ্জল যোগদর্শনের সাধনপাদে সূত্রকার বলছেন-সন্তোষাদনুত্তমঃ সুখলাভঃ ।।৪২।।-সন্তোষ হইতে পরম সুখলাভ হয়।

ব্যাস ভাষ্যানুবাদঃ-(বিষ্ণুপুরাণে) এভাবে বলা হয়েছে, এ সংসারে কামনাজনিত যে সুখ, আর দিব্য স্বর্গীয় যে মহান সুখ, এগুলি তৃষ্ণাক্ষয় জনিত সুখের ষোলভাগেরও এক ভাগ নয়।

ব্যাখ্যাঃ- অভাব বোধই দুঃখের কারণ, তাদৃশ বোধ না থাকিলে আত্মার পরিপূর্ণতা অনুভব হয়, ইহাকেই আত্মারাম বলে। মহাভারতে উক্ত আছে ; যযাতি রাজা বৃদ্ধাবস্থায়ও ভোগতৃষ্ণা দূর করিতে না পারিয়া নিজের পুত্র পুরুর যৌবন গ্রহণ করেন, কিছুকাল পুনৰ্ব্বার বিষয় ভোগ করিয়াও যখন দেখিলেন ভোগতৃষ্ণা যাইবার নহে, বরং ক্রমশঃ বৃদ্ধি হইতেছে, তখন পুত্রের যৌবন প্রত্যর্পণ করিয়া বলিলেন পামরগণ যে তৃষ্ণাকে ত্যাগ করিতে পারে না, বৃদ্ধ হইলেও যাহা ক্ষীণ হয় না, পণ্ডিতগণ সেই তৃষ্ণাকে পরিত্যাগ করিয়া সুখে কাল অতিবাহিত করেন।

মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রঃ-

 


ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্: উর্বারুকমিব বন্ধনান্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাত্।-(ঋগ্বেদ সংহিতা ।। ৭ম মণ্ডল।। সূক্ত ০৫৯।। ১২ ঋক্।। দেবতা -রুদ্র )

অর্থাৎ পরব্রহ্মবাচ্য প্রণব। সুগন্ধি পুষ্টিবৰ্দ্ধক ত্ৰ্যম্বক (ত্রিনেত্রধারী) রুদ্রের যজ্ঞ করি। উর্বারুক ফলের ন্যায় যেন আমরা মৃত্যুবন্ধন হইতে মুক্ত হই। আবার মোক্ষাখ্য অমৃত হইতে যেন না বঞ্চিত হই।

বিষ্ণু-স্মরণঃ-

 


তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সুরয়ঃ। দিবীব চক্ষুরাততম্‌।।-(ঋগ্বেদ সংহিতা,প্রথম মণ্ডল,২২ সুক্ত,২০ঋক্)

দুর্গাদাস লাহিড়ীর মর্ম্মানুসারী ব্যাখ্যাঃ- নিরাবরণ আকাশে সূর্য্যালোক-প্রাপ্তে চক্ষু যেমন অবাধে সমস্ত দর্শন করিতে সমর্থ হয়, জ্ঞানিগণ সেইরূপ পরাজ্ঞান প্রভাবে পরমৈশ্বর্য্যসম্পন্ন সর্ব্বব্যাপক ভগবত বিষ্ণুর পরমপদ অর্থাৎ শ্রেষ্ঠস্বরূপতত্ত্ব সদাকাল প্রত্যক্ষ করিয়া থাকেন।

এই ঋক্ এর ভাব এই যে আকাশে সর্বতো বিচারী যে চক্ষু যেরূপ দৃষ্টি করে, বিদ্বানেরা বিষ্ণুর পরমপদ সেরুপ দৃষ্টি করেন। প্রার্থনার মর্মার্থ এই যে- হে ভগবান! আমার জ্ঞাননেত্র উন্মীলন করিয়া দাও, আমার সম্মুখের বাধা অপসারিত হউক, আকাশের ন্যায় নির্ম্মল পথে আমি যেন তোমায় সদাকাল সর্ব্বত্র দেখিতে পাই।

কি প্রকারে দান কর্তব্য?

 


দান প্রসঙ্গে কৃষ্ণযজুর্বেদের তৈত্তিরীয় শাখার অন্তর্গত তৈত্তিরীয়োপনিষদের শিক্ষাবল্লীর একাদশ অনুবাকে বর্ণিত আছে-

'শ্রদ্ধয়া দেয়ম্। অশ্রদ্ধয়াদেয়ম্। শ্রিয়া দেয়ম্। হ্রিয়া দেয়ম্। ভিয়া দেয়ম্। সংবিদা দেয়ম্।।' ৩

ভাবার্থঃ- আচার্য্য কর্তৃক শিষ্যকে গার্হস্থ্য আশ্রমে প্রবেশের পূর্বে উপদেশ দিতেছেন-'যাহা কিছু দান করিবে, শ্রদ্ধার সহিতই করিবে। অশ্রদ্ধাসহকারে দান করিবে না। ঐশ্বর্যানুযায়ী অর্থাৎ সামর্থ্যানুসারে দান করিবে। সলজ্জভাবে অর্থাৎ নম্রতা সহকারে দান করিবে। সম্ভ্রমের সহিত অর্থাৎ দম্ভ না করিয়া দান করিবে। সংবিদা অর্থাৎ মিত্রতা স্থাপনের জন্য দান করিবে।'৩

ঋগ্বেদীয় পুরুষ-সূক্তের ১ম ঋক্ঃ-

 



পুরুষ দেবতা। নারায়ণ ঋষি।

সহস্রশীর্ষা পুরুষঃ সহস্রাক্ষঃ সহস্রপাৎ।

স ভূমিং বিশ্বতো বৃত্বাত্যতিষ্ঠদ্দশাঙ্গুলম্।।

-(ঋগ্বেদ সংহিতা, ১০ম মণ্ডল, সূক্ত- ৯০, ঋক্- ১)

ভাবার্থঃ- সেই পুরুষের (ভগবানের) সহস্রশীর্ষ (অনন্তমস্তকবিশিষ্ট অর্থাৎ অনন্তশক্তিশালী), সহস্ৰচক্ষু (অনন্তচক্ষুবিশিষ্ট অর্থাৎ অনন্তজ্ঞানস্বরূপ বা সর্বজ্ঞ) ও সহস্রচরণ (সর্ব্বত্র বিদ্যমান বা সর্ব্বব্যাপক)। তিনি ভূমিকে (পৃথিবী বা ব্রহ্মাণ্ডকে) সর্বত্র ব্যাপ্ত করিয়া দশ অঙ্গুলি পরিমাণ অতিরিক্ত হইয়া অবস্থিত থাকেন, অর্থাৎ ব্রহ্মাণ্ডকে সর্ব্বতোভাবে সকল দিক হইতে বেষ্টন করিয়া অতিক্ষুদ্র হৃদ্দেশে অথবা ব্রহ্মাণ্ডের অতীত স্থান অতিক্রম করিয়া বিদ্যমান আছেন।।

এই মন্ত্রটী নিত্য সত্যতত্ত্ব প্রখ্যাপক। ভাব এই যে, সকল বিশ্ব ভগবানের একাংশে অবস্থিত; তিনি সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞ।

ভক্তশ্রেষ্ট প্রহ্লাদের বিষ্ণুভক্তিতে তন্ময় হয়ে অভেদজ্ঞানে অদ্বৈতসিদ্ধিঃ-

 


বিষ্ণুমহাপুরাণের প্রথমাংশের উনবিংশ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-সেই মহামতি প্রহ্লাদ সমুদ্রমধ্যে পর্ব্বতাচ্ছাদিত থাকিয়া আহ্নিক বেলায় একাগ্র চিত্তে অচ্যুতের স্তব করিতে লাগিলেন।-

প্রহ্লাদ উবাচ।

নমস্তে পুন্ডরীকাক্ষ নমস্তে পুরুষোত্তম।

নমস্তে সর্ব্বলোকাত্মন্ নমস্তে তিগ্মচক্রিণে।৬৪

নমো ব্রহ্মণ্যদেবায় গোব্রাহ্মণহিতায় চ।

জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।৬৫

অনুবাদঃ-প্রহ্লাদ বলিলেন -হে পুন্ডরীকাক্ষ! তোমাকে নমস্কার। হে পুরুষোত্তম! তোমাকে নমস্কার। হে সর্ব্বলোকাত্মন্! তোমাকে নমস্কার। হে তিগ্মচক্রিণে! তোমাকে নমস্কার।৬৪

গো-ব্রাহ্মণের হিতকারী ব্রহ্মণ্যদেবকে নমস্কার; জগতের হিতস্বরূপ কৃষ্ণকে নমস্কার। গোবিন্দকে নমস্কার।৬৫...................................

এইভাবে সর্বব্যাপী অনন্ত ভগবান অচ্যুতের স্তব ও ধ্যান করিতে করিতে অভেদজ্ঞানে প্রহ্লাদের অদ্বৈত সিদ্ধি হইল এইভাবে-

সর্ব্বগত্বাদনন্তস্য স এবাহমবস্থিতঃ।

মত্তঃ সর্বমহং সর্ব্বং ময়ি সর্ব্বং সনাতনে।। ৮৫

অহমেবাক্ষয়ো নিত্যংপরমাত্মাত্মসংশ্রয়ঃ।

ব্রহ্মসংজ্ঞোহহমেবাগ্রে তথান্তে চ পুরঃ পূমান্।। ৮৬

অনুবাদঃ- অনন্তের সর্ব্বব্যাপিত্বজন্য তিনিই আমি, আমা হইতে সমস্ত উৎপন্ন; আমিও সর্ব্বরূপে বর্তমান এবং সনাতনরূপ আমাতেই লয় প্রাপ্ত হইবে।৮৫

আমিই সৃষ্টির পূর্ব্বে অক্ষয়, নিত্য ও সমস্ত জীবাত্মার অধিষ্ঠাতা ব্রহ্মনামক পরমাত্মা এবং আমিই শেষে পরমপুরুষ।৮৬

তৎপরে বিংশঃ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে

পরাশর উবাচ।

বং সঞ্চিন্তয়ন্ বিষ্ণুমভেদেনাত্মনো দ্বিজ।

তন্ময়ত্বমবাপাগ্র্যং মেনে চাত্মানমচ্যুতম্।।১

বিসস্মার তথাত্মানং নান্যৎ কিঞ্চিদ্জানত।

অহমেবাব্যয়োহনন্তঃ পরমাত্মেত্যচিন্তয়ৎ।।২

তস্য তদ্ ভাবনাযোগাৎ ক্ষীণপাপস্য বৈ ক্রমাৎ।

শুদ্ধেহন্তঃকরণে বিষ্ণুস্তস্থৌ জ্ঞানময়েহচ্যুতঃ।।৩

অনুবাদঃ- পরাশর বলিলেন-হে দ্বিজ! শ্রীভগবান বিষ্ণুকে এইরূপে আপনা হইতে অভিন্ন ভাবিতে ভাবিতে নিতান্ত তন্ময়ত্ব প্রাপ্ত হইয়া প্রহ্লাদ নিজেকে অচ্যুত মনে করিয়াছিলেন। তৎকালে তিনি নিজেকে বিস্মৃত হইয়াছিলেন। বিষ্ণু ব্যতীত অন্য কিছুই জানিতে পারেন নাই এবং আমিই অব্যয় অনন্ত পরমাত্মা এইরূপে চিন্তা করিয়াছিলেন। এইরূপ ভাবনাযোগে ক্রমে নিষ্পাপ (সমস্ত কর্ম্মবাসনারহিত) হইলে, তাঁহার জ্ঞানময় শুদ্ধ অন্তঃকরণে অচ্যুত বিষ্ণু স্থিত হইয়াছিলেন।১,২,৩

মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামঃ-

 


বাল্মীকি রামায়ণের বালকান্ডের প্রথম সর্গে মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামের পরিচয় প্রস্ফুটিত হইয়াছে এইভাবে- “মহর্ষি বাল্মীকি তপোনিরত স্বাধ্যায়সম্পন্ন বেদবিদ্ দিগের অগ্রগণ্য মুনিবর নারদকে সম্বোধনপূর্বক কহিলেন-দেবর্ষে ! এক্ষণে এই পৃথিবীতে কোন ব্যক্তি গুণবান, বিদ্বান, মহাবল পরাক্রান্ত, মহাত্মা, ধর্মপরায়ণ, সত্যবাদী, কৃতজ্ঞ, দৃঢ়ব্রত ও সচ্চরিত্র আছেন ? কোন ব্যক্তি সকল প্রাণীর হিতসাধন করিয়া থাকেন ? কোন ব্যক্তি লোকব্যবহারকুশল, অদ্বিতীয়, সুচতুর ও প্রিয়দর্শন ? কোন ব্যক্তিই বা রোষ ও অসূয়ার বশবর্তী নহেন ? রণস্থলে ক্ৰোধজাত হইলে কাহাকে দেখিয়া দেবতারাও ভীত হন ? হে তপোধন ! এইরুপ গুণসম্পন্ন মনুষ্য কে আছেন, তাহা আপনিই বিলক্ষণ জানেন। এক্ষণে বলুন, ইহা শ্রবণ করিতে আমার একান্ত কৌতুহল উপস্থিত হইয়াছে। ত্রিলোকদর্শী দেবর্ষি নারদ বাল্মীকির বাক্য শ্রবণ করিয়া তাঁহাকে সম্ভাষণপূর্বক পুলকিত মনে কহিলেন, তাপস! তুমি যে-সমস্ত গুণের কথা উলেখ করিলে তৎসমূদয় সামান্য মনুষ্যে নিতান্ত সুলভ নহে। যাহাই হউক, এইরূপ গুণবান মনুষ্য এই পৃথিবীতে কে আছেন, এক্ষণে আমি তাহা স্মরণ করিয়া কহিতেছি, শ্রবণ কর। রাম নামে ইক্ষ্বাকুবংশীয় সুবিখ্যাত এক নরপতি আছেন। তাঁহার বাহুযুগল আজানুলম্বিত, স্কন্ধ অতি উন্নত, গ্রীবাদেশ রেখাত্রয়ে অঙ্কিত, বক্ষঃস্থল অতি বিশাল, মস্তক সুগঠিত, ললাট অতি সুন্দর, নেত্ৰ আকৰ্ণবিস্তৃত ও গাত্রবর্ণ স্নিগ্ধ। তিনি নাতিদীর্ঘ ও নাতিহ্রস্ব; তাঁহার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রমাণানুরূপ ও বিরল। সেই সর্বসুলক্ষণসম্পন্ন সর্বাঙ্গসুন্দর মহাবীর রাম অতিশয় বুদ্ধিমান ও সদ্বক্তা। তিনি ধর্মজ্ঞ, সত্যপ্রতিজ্ঞ, বিনীত ও নীতিপরায়ণ; তাঁহার চরিত্র অতি পবিত্র; তিনি যশস্বী, জ্ঞানবান, সমাধিসম্পন্ন, ও জীবলোকের প্রতিপালক এবং বর্ণাশ্রম ধর্ম ও স্বধর্মের রক্ষক। তিনি আত্মীয়স্বজন সকলকেই রক্ষা করিতেছেন। তিনি প্রজাপতিসদৃশ ও শত্রুনাশক। তিনি অনুরক্ত ভক্তকে আশ্রয় দিয়া থাকেন। তিনি বেদ-বেদাঙ্গে পারদর্শী, ধনুর্বিদ্যাবিশারদ, মহাবীর্য্যশালী, ধৈর্যশীল ও জিতেন্দ্রিয়। তিনি বেদাদি সর্ব শাস্ত্ৰজ্ঞ, প্রতিভাসম্পন্ন ও স্মৃতিশক্তি-যুক্ত। সকল লোকেই তাঁহার প্রতি প্রীতি প্রদর্শন করিয়া থাকে। তিনি অতি বিচক্ষণ, সদাশয় ও তেজস্বী। নদীসকল যেমন মহাসাগরকে সেবা করে, সেইরূপ সাধুগণ সততই তাঁহার সেবা করিয়া থাকেন। তিনি শত্ৰু-মিত্রের প্রতি সমদর্শী ও অতিশয় প্রিয়দর্শন। সেই কৌশল্যাগর্ভসম্ভূত লোকপূজিত রাম গাম্ভীর্য্যে সমুদ্রের ন্যায়, ধৈর্যে হিমাচলের ন্যায়, বলর্বীযে ভগবান বিষ্ণুর ন্যায়, সৌন্দর্যে চন্দ্রের ন্যায়, ক্ষমায় পৃথিবীর ন্যায়, ক্ৰোধে কালানলের ন্যায়, বদান্যতায় কুবেরের ন্যায় ও সত্যনিষ্ঠায় দ্বিতীয় ধর্মের ন্যায় কীর্তিত হইয়া থাকেন। তিনি রাজা দশরথের সর্বজ্যেষ্ঠ ও গুণ-শ্রেষ্ঠ পুত্র।" -(বাল্মীকি রামায়ণ, বালকান্ড, সর্গ-১)

মুক্তিমন্দিরের দ্বিতীয় দ্বারপাল হইল বিচারঃ-


 

মহর্ষি বশিষ্ঠদেব বলিলেন-'হে রাম! মুক্তিমন্দিরের দ্বিতীয় দ্বারপাল হইল বিচার। শাস্ত্রসহায়ে নির্ম্মল বুদ্ধি দ্বারা সর্ব্বদা আত্মবিচার করা কর্ত্তব্য।'

বিচারাৎ তীক্ষ্নতামেত্য ধীঃ পশ্যতি পরংপদম্।

দীর্ঘ-সংসার-রোগসা বিচারো হি মহৌষধম্।।-(যোগবাশিষ্ঠ রামায়ণ, মুমুক্ষু প্রকরণ,১৪।২)

অর্থাৎ বিচার দ্বারা বুদ্ধি সমধিক নির্ম্মল ও তীক্ষ্ন হইলেই পরমপদ লাভ করা যায়। বিচারই হইল এই সুদীর্ঘ সংসাররূপ ব্যাধির মহৌষধ।

কোহহং কথময়ং দোষঃ সংসারাখ্য উপাগতঃ।

ন্যায়েনেতি পরামর্শো বিচার ইতি কথ্যতে।।-(যোগবাশিষ্ঠ রামায়ণ, মুমুক্ষু প্রকরণ,১৪।৫০)

অর্থাৎ আমি কে? কি প্রকারে এই সংসার নামক দোষ উৎপন্ন হইল এবং ইহা নিবারণের উপায় কি?- বেদ ও অন্যান্য শাস্ত্রসহায়ে এবং আচার্য্যের উপদেশ অনুসারে তাহা অনুসন্ধানের নাম বিচার।

ভগবান শ্রীরামের পিতৃপ্রতিজ্ঞায় দৃঢ়তা ও ভরতের জ্যেষ্ঠভ্রাতার প্রতি অপূর্ব ভক্তিঃ-

 


শ্যামবর্ণ পদ্মপলাশলোচন শ্রীরাম মত্ত হংসের ন্যায় কলকন্ঠে বললেন, 'বৎস! তুমি পৃথিবী শাসন করতে সমর্থ, এখন অমাত্য সুহৃদ ও বুদ্ধিমান মন্ত্রীগণের মন্ত্রণা অনুসারে রাজ্য পালন কর।'-

'লক্ষ্মীশ্চন্দ্রাদপেয়াদ্ বা হিমবান্ বা হিমং ত্যজেৎ।

অতীয়াৎ সাগরো বেলাং ন প্রতিজ্ঞামহং পিতুঃ।।'-(বাল্মীকি রামায়ণ, অযোধ্যাকান্ড, সর্গ-১১২।১৮)

-'চন্দ্রের শোভা অপনীত হতে পারে, হিমালয় হিম ত্যাগ করতে পারেন, কিন্তু পিতার প্রতিজ্ঞা আমি লঙ্ঘন করতে পারব না।'

ভরত বললেন, 'হে আর্য! আপনার হেমভূষিত পাদুকাদ্বয় দিন, তারাই রাজ্যের যোগক্ষেম বিধান করবে। আমি জটাচীরধারী ফলমূলাশী হয়ে আপনার প্রতিক্ষায় চতু্দর্শ বর্ষ নগরের বাইরে বাস করব, সমস্ত রাজকার্য আপনার পাদুকাকে নিবেদন করে সম্পাদন করব। চতুর্দশ বর্ষ সম্পূর্ণ হলে যদি আপনাকে না দেখি তবে হুতাশনে অর্থাৎ অগ্নিতে প্রবেশ করব।'..........

রাবণবধ

 


'অনন্তর সুরসারথি মাতলির পরামর্শে ভগবান রঘুবীর শ্রীরাম ব্রহ্মাস্ত্র গ্রহণ করিলেন। পূর্বে অপরিচ্ছিন্নপ্রভাব ভগবান প্রজাপতি ত্ৰিলোকজয়ার্থী ইন্দ্রকে ঐ অস্ত্র প্রদান করেন। পরে শ্রীরাম মহর্ষি অগস্ত্য হইতে উহা অধিকার করিয়াছেন। ঐ অস্ত্রের পক্ষদ্বয়ে পবন, ফলমুখে অগ্নি ও সূর্য, শরীরে মহাকাশ এবং গুরুতায় সুমেরু ও মন্দর পর্বত অধিষ্ঠান করিতেছেন। উহা মহাভূত সমষ্টির সারাংশে নির্মিত, স্বতেজপ্রদীপ্ত, রক্তমেদলিপ্ত, সধূম প্রলয়বহ্নির ন্যায় করালদর্শন এবং বজ্রবৎ কঠোর ও ঘোরনাদী।  উহা রুষ্ট সর্পের ন্যায় ভীষণ এবং কৃতান্তবৎ উগ্রদর্শন। বানরগণ ঐ ব্রহ্মাস্ত্র দেখিয়া আনন্দিত হইল এবং রাক্ষসেরা অবসন্ন হইয়া গেল। মহাবল রাম বেদোক্ত বিধানক্রমে উহা মন্ত্রপূত করিয়া শরাসনে যোজনা করিলেন। অস্ত্র যোজিত হইবামাত্র সমস্ত প্রাণী ভীত ও পৃথিবী কম্পিত হইয়া উঠিল। রাম ক্ৰোধে অধীর হইয়া রাবণের প্রতি উহা পরিত্যাগ করিলেন। বজ্রবৎ দুর্ধর্ষ কৃতান্তের ন্যায় দুর্নিবার ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষিপ্ত হইবামাত্র মহাবেগে রাবণের বক্ষে গিয়া পড়িল এবং ঝটিতি উহার বক্ষভেদ ও প্রাণহরণপূর্বক রক্তাক্ত দেহে ভূগর্ভে প্রবেশ করিল। রাবণের হস্ত হইতে সহসা শর ও শরাসন স্খলিত হইয়া পড়িল। সে বজ্রাহত বৃত্রাসুরের ন্যায় রথ হইতে ভীমবেগে ভূতলে পতিত হইল।'

-(বাল্মীকি রামায়ণ, যুদ্ধকাণ্ড, নবাধিকশততম সর্গ)

দুষ্কৃতিকারীদের বিনাশার্থ ভগবান সর্বদা প্রকট হয়ে ধর্ম্মসংস্থাপন করেন। অশুভশক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির,অধর্ম্মের বিরুদ্ধে ধর্ম্মের আর অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।

ভাগবতে অদ্বৈতবেদান্তোক্ত দৃগ্-দৃশ্যবিবেক ও প্রতিবিম্ববাদ—

  সনৎকুমার মোক্ষের সাধন উপদেশ করতে গিয়ে বলছেন — দগ্ধাশয়ো মুক্তসমস্ততদ্গুণো নৈবাত্মনো বহিরন্তর্বিচষ্টে । পরাত্মনোর্যদ্ব্যবধানং...