Saturday, 19 November 2022

রাবণবধ

 


'অনন্তর সুরসারথি মাতলির পরামর্শে ভগবান রঘুবীর শ্রীরাম ব্রহ্মাস্ত্র গ্রহণ করিলেন। পূর্বে অপরিচ্ছিন্নপ্রভাব ভগবান প্রজাপতি ত্ৰিলোকজয়ার্থী ইন্দ্রকে ঐ অস্ত্র প্রদান করেন। পরে শ্রীরাম মহর্ষি অগস্ত্য হইতে উহা অধিকার করিয়াছেন। ঐ অস্ত্রের পক্ষদ্বয়ে পবন, ফলমুখে অগ্নি ও সূর্য, শরীরে মহাকাশ এবং গুরুতায় সুমেরু ও মন্দর পর্বত অধিষ্ঠান করিতেছেন। উহা মহাভূত সমষ্টির সারাংশে নির্মিত, স্বতেজপ্রদীপ্ত, রক্তমেদলিপ্ত, সধূম প্রলয়বহ্নির ন্যায় করালদর্শন এবং বজ্রবৎ কঠোর ও ঘোরনাদী।  উহা রুষ্ট সর্পের ন্যায় ভীষণ এবং কৃতান্তবৎ উগ্রদর্শন। বানরগণ ঐ ব্রহ্মাস্ত্র দেখিয়া আনন্দিত হইল এবং রাক্ষসেরা অবসন্ন হইয়া গেল। মহাবল রাম বেদোক্ত বিধানক্রমে উহা মন্ত্রপূত করিয়া শরাসনে যোজনা করিলেন। অস্ত্র যোজিত হইবামাত্র সমস্ত প্রাণী ভীত ও পৃথিবী কম্পিত হইয়া উঠিল। রাম ক্ৰোধে অধীর হইয়া রাবণের প্রতি উহা পরিত্যাগ করিলেন। বজ্রবৎ দুর্ধর্ষ কৃতান্তের ন্যায় দুর্নিবার ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষিপ্ত হইবামাত্র মহাবেগে রাবণের বক্ষে গিয়া পড়িল এবং ঝটিতি উহার বক্ষভেদ ও প্রাণহরণপূর্বক রক্তাক্ত দেহে ভূগর্ভে প্রবেশ করিল। রাবণের হস্ত হইতে সহসা শর ও শরাসন স্খলিত হইয়া পড়িল। সে বজ্রাহত বৃত্রাসুরের ন্যায় রথ হইতে ভীমবেগে ভূতলে পতিত হইল।'

-(বাল্মীকি রামায়ণ, যুদ্ধকাণ্ড, নবাধিকশততম সর্গ)

দুষ্কৃতিকারীদের বিনাশার্থ ভগবান সর্বদা প্রকট হয়ে ধর্ম্মসংস্থাপন করেন। অশুভশক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির,অধর্ম্মের বিরুদ্ধে ধর্ম্মের আর অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।

No comments:

Post a Comment

ভাগবতে অদ্বৈতবেদান্তোক্ত দৃগ্-দৃশ্যবিবেক ও প্রতিবিম্ববাদ—

  সনৎকুমার মোক্ষের সাধন উপদেশ করতে গিয়ে বলছেন — দগ্ধাশয়ো মুক্তসমস্ততদ্গুণো নৈবাত্মনো বহিরন্তর্বিচষ্টে । পরাত্মনোর্যদ্ব্যবধানং...