Thursday, 31 August 2023

ব্রহ্মই যে মায়ার আশ্রয়, এটা ভাগবত সিদ্ধঃ-

 


ব্যাসদেব বদরীবৃক্ষসমাকুল নিজ আশ্রমে মনকে স্থির করে নিশ্চল সমাধিমগ্ন হয়ে ভক্তিযোগাশ্রিত নির্মল হৃদয়ে পরব্রহ্ম তদাশ্রিত মায়াকে দর্শন করলেন

অপশ্যৎ পুরুষং পূর্বং মায়াঞ্চ তদপাশ্রয়ম্।

-(শ্রীমদ্ভাগবতম্, প্রথম স্কন্ধ, ৭ম অধ্যায়, )

শ্রীধরটীকাঃ- পূর্বং প্রথমং পুরুষমীশ্বরমপশ্যৎ। তদপাশ্রয়ম্ ঈশ্বরাশ্রয়াং তদধীনাং মায়াঞ্চাপশ্যৎ।

অর্থাৎ প্রথমে পুরুষ ঈশ্বরকে দেখতে পেলেন এবং তৎপশ্চাৎ ঈশ্বরের আশ্রয়ভূতাতাঁর অধীনস্থা মায়াকে দর্শন করেন।

মায়া বা অবিদ্যার দ্বারা সম্মোহিত হয়ে জীব ত্রিগুণাতীত ব্রহ্মস্বরূপ হয়েও ত্রিগুণের বশবর্তী হয়ে অভিমানবশত সংসার দুঃখরূপ অনর্থ ভোগ করে। ভাগবতের পরবর্তী শ্লোকেই তা বর্ণিত

যয়া সম্মোহিতো জীব আত্মানং ত্রিগুণাত্মকম্

পরোঽপি মনুতেঽনর্থং তৎকৃতং চাভিপদ্যতে

-(শ্রীমদ্ভাগবতম্, প্রথম স্কন্ধ, ৭ম অধ্যায়, )

শ্রীধরটীকাঃ- যয়া মায়য়া সম্মোহিতঃ স্বরূপাবরণেন বিক্ষিপ্তঃ পরোঽপি গুণত্রয়াদ্ব্যতিরিক্তোঽপি তৎকৃতং ত্রিগুণত্বাভিমানকৃতম্ অনর্থং কর্তৃত্বাদিকঞ্চ প্রাপ্নোতি।

অর্থাৎ মায়ার দ্বারা জীব সম্যক্ রূপে মোহিত হয়, এই আবরণের দ্বারা জীব ত্রিগুণাতীত ব্রহ্মস্বরূপ হয়েও সত্ত্বাদি ত্রিগুনের বশবর্তী হয়ে অভিমানবশত বিক্ষিপ্ত হয়। এভাবে মায়ার বিক্ষেপশক্তির দ্বারা চালিত হয়ে জীব কর্তৃত্বভোক্তৃত্বরূপ যত অনর্থ, সেগুলি ভোগ করতে থাকে।...

শ্রীশুভ চৌধুরী

জুলাই , ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।

নির্গুণ ব্রহ্ম বিশ্বরূপী হলেন কিরূপে?

 


ঋষিরা জিজ্ঞাসা করলযদি পরমেশ্বর নিষ্কল, নির্মল, নিত্য নিষ্ক্রিয় হন, তবে হে মহাদেব! আপনি বিশ্বরূপী হলেন কিরূপে?

ঈশ্বর উবাচ।

নাহং বিশ্বো বিশ্বঞ্চ মামৃতে বিদ্যতে দ্বিজাঃ।

মায়া নিমিত্তমাত্রাস্তি সা চাত্মনি ময়াশ্রিতা।।

ঈশ্বর বললেনহে দ্বিজগণ! আমি বিশ্ব নই, কিন্তু বিশ্বও আমা ব্যতিরেকে বিদ্যমান নেই। মায়াই এর হেতু, আমি মায়াকেই আত্মাতে আশ্রয় দিয়েছি।

অনাদিনিধনা শক্তির্মায়াঽব্যক্তসমাশ্রয়া

তন্নিমিত্তঃ প্রপঞ্চোঽয়মব্যক্তাদভবৎ খলু

প্রকাশসমাশ্রয়া শক্তিই মায়াতার আদি বা অন্ত নেই। তজ্জন্যই এই প্রপঞ্চ অব্যক্ত হতে উৎপন্ন হয়।

অহমেব পরং ব্রহ্ম মত্তো হ্যন্যন্ন বিদ্যতে

তস্মান্মে বিশ্বরূপত্বং নিশ্চিতং ব্রহ্মবাদিভিঃ

ব্রহ্মবাদী মুনিরা আমারই মধ্যে বিশ্বরূপত্ব দেখেছেন কারণ আমিই পরমব্রহ্ম; আমা হতে পৃথক অন্য কিছু নেই।.....

-(কূর্মমহাপুরাণের উপরিভাগে ঈশ্বরগীতা, নবম অধ্যায়)

শ্রীশুভ চৌধুরী

জুলাই ১০, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।

আত্মা স্বভাবতই জ্ঞানময়—আনন্দময়, তার আবার এই দুঃখময় সংসার কিসের?

 


উত্তরে স্বয়ং ভগবান্ শ্রীরামচন্দ্র বলেছেন

অজ্ঞানতোঽধ্যাসবশাৎপ্রকাশতে

       জ্ঞানে বিলীয়েত বিরোধতঃ ক্ষণাৎ ৩৬॥

অজ্ঞানতাজনিত অধ্যাসবশেই এরকম মনে হয়ে থাকে। তত্ত্বজ্ঞানের উদয় হলে, তার বিরুদ্ধবাদী অজ্ঞানতা দূর হয়ে যায়; অর্থাৎ তত্ত্বজ্ঞান উদয় হলেই সংসার বিলীন হয়ে যায়।

যদন্যদন্যত্র বিভাব্যতে ভ্রমা-

      দধ্যাসমিত্যাহুরমুং বিপশ্চিতঃ

অসর্পভূতেঽহিবিভাবনং যথা

       রজ্জ্বাদিকে তদ্বদপীশ্বরে জগৎ ৩৭॥

ভ্রমের বশে এক বস্তুকে আর-এক বস্তু বলে বোঝাকেই পণ্ডিতেরা বলেন 'অধ্যাস' যেমন রজ্জুতে সর্পজ্ঞান ইত্যাদি। অর্থাৎ দড়িকে সাপ বলে মনে করা। দড়ি তো আর যথার্থ সাপ নয়, তবুও এঁকেবেঁকে পথে পড়ে থাকা দড়িকে লোকে সাপ বলে ভুল করে। এইরকম রজ্জুতে সর্পভ্রমের মতই, ঈশ্বরে জগৎ ভ্রম হয়ে থাকে।

-(অধ্যাত্ম-রামায়ণের উত্তরকাণ্ডের পঞ্চম সর্গের অন্তর্গত রামগীতা)

শ্রীশুভ চৌধুরী

জুলাই ২০, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।

শিবনিন্দুক বৈষ্ণবদের নরকে গমন করতে হয়ঃ-

 


কূর্মপুরাণে স্বয়ং ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন

ধ্যানং যোগস্তপস্তপ্তং জ্ঞানং যজ্ঞাদিকো বিধিঃ

তেষাং বিনশ্যতি ক্ষিপ্রং যে নিন্দন্তি মহেশ্বরম্

যো মাং সমর্চ্চয়েন্নিত্যমেকান্তং ভাবমাশ্রিতঃ।

বিনিন্দন্ দেবমীশানং যাতি নরকাযুতম্।।

তস্মাৎ সম্পরিহর্ত্তব্যা নিন্দা পশুপতেদ্বিজাঃ।

কর্ম্মণা মনসা বাচা মদ্ভক্তেষ্বপি যত্নতঃ।।

-(কূর্মপুরাণ, পূর্বভাগ, সপ্তবিংশ অধ্যায়-১৫, ১৬)

যাঁহারা মহেশ্বরের নিন্দা করে, তাহাদের ধ্যান, তপস্যা, জ্ঞান যজ্ঞাদি সমস্তই আশু বিনষ্ট হয়। যে ব্যক্তি একান্ত ভক্তিসহকারে প্রতিদিন আমার পূজা করে, অথচ মহেশ্বরের নিন্দা করে, তাহাকে অনেক প্রকার নরকে গমন করিতে হয়। হে দ্বিজগণ! অতএব সযত্নে কায়মনোবাক্যে আমার ভক্তগণের পশুপতির নিন্দা পরিত্যাগ করিবে।.......

শ্রীশুভ চৌধুরী

আগস্ট ১৩, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।

সকল সঞ্চয়ই পরিশেষে ক্ষয় পায়, উন্নতির অন্তে পতন হয়, মিলনের অন্তে বিচ্ছেদ হয়, জীবনের অন্তে মরণ হয়

 


সর্বে ক্ষয়ান্তা নিচয়াঃ পতনান্তাঃ সমুচ্ছ্রয়াঃ।

সংযোগা বিপ্রয়োগান্তা মরণান্তঞ্চ জীবিতম্।।

সকল সঞ্চয়ই পরিশেষে ক্ষয় পায়, উন্নতির অন্তে পতন হয়, মিলনের অন্তে বিচ্ছেদ হয়, জীবনের অন্তে মরণ হয়।

(শ্রীমহাভারত, স্ত্রীপর্ব, জলপ্রাদানিকপর্বাধ্যায়)

শ্রীশুভ চৌধুরী

আগস্ট ১৬, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।

ঈশ্বর অবর্ণনীয়, কোনো নাম-রূপ দিয়েই তার বর্ণনা করা যেখানে সম্ভব নয়, সেখানে সেই পরব্রহ্মের ধ্যান যোগীরা কিভাবে করবেন?

 


নিরালম্বের ধ্যান বা চিন্তা বড়ই কঠিন। কোন কিছু চিন্তা করতে গেলে অবশ্যই একটা অবলম্বনের প্রয়োজন। ভগবান্ উত্তর গীতায় বলেছেন

ঊর্ধ্বপূর্ণমধঃপূর্ণং মধ্যপূর্ণং যদাত্মকম্

সর্বপূর্ণং আত্মেতি সমাধিস্থস্য লক্ষণম্

যার ঊর্ধ্ব পূর্ণ, অধঃ পূর্ণ, মধ্য পূর্ণ অর্থাৎ ব্রহ্মাণ্ডের সর্বস্থানেই যিনি পরিপূর্ণ, তিনিই আত্মা। যে যোগী এইভাবে তাঁকে চিন্তা করেন, তিনি তাতেই সমাহিত হয়ে যান; তাঁর মধ্যে সমাধির লক্ষণ দেখা দেয়।

তখন অর্জুন ভগবানকে পুনরায় প্রশ্ন করলেন, ভগবান্! আপনি যা বললেন, তাতে তো অবলম্বনের কথা এসে পড়ল। অবলম্বন মানেই তো অনিত্য, নশ্বর, বিনাশশীল। আত্মা বা পরব্রহ্ম তো আর বিনাশীল নন, আবার তিনি অস্তিত্বহীন শূন্যপদার্থও নন। তাহলে যিনি নশ্বরও নন, আবার শূন্যও নন, যোগীরা কিভাবে তাঁকে ধ্যান করবেন?

শ্রীভগবানুবাচ-

হৃদয়ং নির্মলং কৃত্বা চিন্তয়িত্বাপ্যনাময়ম্

অহমেব ইদং সর্বমিতি পশ্যেৎপরং সুখম্

শ্রীভগবান্ বললেনহৃদয়কে নির্মল করে অর্থাৎ সংসারে থাকার ফলে স্বাভাবিকভাবে যে রাগ, দ্বেষ, কামনা-বাসনা এসে চিত্তকে কলুষিত করে, হৃদয়কে সংকীর্ণ করে, সেগুলো পরিহার করে, তা থেকে হৃদয়কে সংকীর্ণতা-মুক্ত এবং শুদ্ধ করে সেই অনাময়কে (নিত্য-শুদ্ধ-বুদ্ধকে) যোগীরা চিন্তা করবেন। তাঁর সেই চিন্তার পরিসর হবে এইরকমআমি বিচ্ছিন্ন কোন সত্তা নই। স্থাবর-জঙ্গম প্রভৃতি নানা অস্তিত্ব নিয়ে এই যে বিশ্ব, আমিই সেই অখণ্ড বিশ্ব। এইভাবে যোগী যখন আপন সত্তাকে নিখিল বিশ্বরূপে দেখবেন তখনই যোগযুক্ত হয়ে তিনি সুখী হবেন অর্থাৎ ব্রহ্মানন্দ লাভ করবেন।

পুরুষোত্তম ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ এখানে অর্জুনকে উপনিষদের সেই মর্মকথাটিই বলেছেন। ধ্যান করবে সেই বৃহৎ মনের, ধ্যান করবে 'অহং ব্রহ্মেতি'আমিই ব্রহ্ম; 'অহমিত্যক্ষরং ব্রহ্ম'আমিই অক্ষরব্রহ্ম; 'অহমেকমিদং সর্বমিতি'— আমিই এই অখিল ব্রহ্মাণ্ড। এভাবেই যোগী অপরোক্ষানুভব প্রাপ্ত হয়। পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য গৌড়পাদাচার্য এই শ্লোকের ভাষ্যে বলেছেন"হৃদয়ং চিত্তং নির্মলং জ্ঞানবিরোধিরাগাদিদোষরহিতং কৃত্বা অনাময়ং চিন্তয়িত্বা ঈশ্বরং ধ্যাত্বা পরং সুখী সন্ এক এবাহমিদং সর্বং জগজ্জালমহমেব মত্তো ব্যতিরিক্তমন্যৎ ইতি পশ্যেৎ অপরোক্ষানুভবং প্রাপ্নুয়াৎ ইত্যর্থঃ॥"

—("উত্তরগীতা", প্রথম অধ্যায়, ৩৫-৩৮)

শ্রীশুভ চৌধুরী

আগস্ট ২৯, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।

ভগবদ্ভক্ত সাধুর আচরণঃ-

 


যে কর্মগুলো ভগবানে সমর্পণ করা হয়, সেগুলোই ভক্তিযোগের সৃষ্টি করে। সেই সদাচার অর্থাৎ সাধুদের আচরণ দেখানো হচ্ছে ভাগবতের এই শ্লোকে

কুর্বাণা যত্র কর্মাণি ভগবচ্ছিক্ষয়াসকৃৎ

গৃণন্তি গুণনামানি কৃষ্ণস্যানুস্মরন্তি

-(শ্রীমদ্ভাগবত, ১ম স্কন্ধ, ৫ম অধ্যায়-৩৬)

আচার্য শ্রীধর স্বামী ভাবার্থদীপিকাতে বলেছেন

যখন ভগবানের শিক্ষা অনুসারে কর্মগুলো করা হয়, তখন সাধুজনেরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের গুণকথা কীর্তন করেন নামগুলো স্মরণ করেন অর্থাৎ স্বয়ং কৃষ্ণকেই স্মরণ করেন। ভগবানের শিক্ষাপ্রণালীটি এইরূপ

যৎ করোষি যদশ্নাসি যজ্জুহোষি দদাসি যৎ

যত্তপস্যসি কৌন্তেয় তৎকুরুষ্ব মদর্পণম্ ৷৷

-(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, /২৭)

"হে কৌন্তেয়! তুমি যা কিছু অনুষ্ঠান কর, যা কিছু ভোজন কর, যা কিছু হোম কর, যা কিছু দান কর, যা কিছু তপস্যা কর, তৎ সমস্তই আমাকে অর্পণ করবে।".....

শ্রীশুভ চৌধুরী

আগস্ট ২৭, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।

"কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ম্"

 


নিত্য, জন্মরহিত, এবং ব্রহ্মাদি স্থাবর পর্যন্ত সর্বভূতের ঈশ্বর হয়েও স্বীয় মায়া দ্বারা ভগবান্ নারায়ণ সাধুদিগের রক্ষা, দুষ্টদিগের বিনাশ এবং ধর্মসংস্থাপনের জন্য যুগে যুগে অবতীর্ণ হন। শ্রীমদ্ভাগবতের "অবতারা হ্যসঙ্খ্যেয়া হরেঃ সত্ত্বনিধের্দ্বিজাঃ"—এই শ্লোকে ভগবানের অসংখ্য অবতারের কথায় বলা হয়েছে। অক্ষয় সরোবর থেকে যেমন অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলধারা নির্গত হয়, সেরূপ শুদ্ধসত্ত্বাত্মক ভগবান্ শ্রীহরি থেকে অসংখ্য অবতারগণ আবির্ভূত হয়ে থাকেন। শাস্ত্রে যে সকল অবতারের কথা বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে যেটি বিশেষ তার সম্বন্ধে ভাগবতে বলা হয়েছে

এতে চাংশকলাঃ পুংসঃ কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ম্

ইন্দ্রারিব্যাকুলং লোকং মৃড়য়ন্তি যুগে যুগে

-(শ্রীমদ্ভাগবত, ১ম স্কন্ধ, ৩য় অধ্যায় -২৮)

শাস্ত্রোক্ত সমস্ত অবতারই ভগবান্ নারায়ণের অংশ বা কলারূপে দেবদ্বেষী অসুরদের দ্বারা উৎপীড়িত পৃথিবীকে যুগে যুগে সুখী করেছেন। কিন্তু কৃষ্ণই স্বয়ং ভগবান্ নারায়ণ।

আচার্য শ্রীধর স্বামী ভাবার্থদীপিকাতে বলেছেনঅবতারদের মধ্যে কেউ পরমেশ্বরের অংশ-বিভূতি, কেউ বা কলা-বিভূতি। মৎস্যাদি অবতারে সর্বজ্ঞত্ব সর্বশক্তি নিহিত থাকলেও, তাদের মধ্যে সেই সেই অবতারের উপযোগী জ্ঞান ক্রিয়াশক্তির স্ফুরণ হয়েছে। সনৎকুমারাদি এবং নারদাদি অবতারে তাঁদের উপযোগী জ্ঞান শক্তির প্রকাশ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুমারাদি অবতারে হয়েছে জ্ঞানের প্রকাশ এবং পৃথু প্রভৃতি অবতারে হয়েছে শক্তির প্রকাশ। কিন্তু "কৃষ্ণস্তু সাক্ষাৎ ভগবান্ নারায়ণ এব আবিস্কৃত সর্বশক্তিত্বাৎ" কৃষ্ণই একমাত্র সাক্ষাৎ ভগবান নারায়ণযেহেতু তাঁর মধ্যে সর্বদাই সকল প্রকার শক্তির বিকাশ দেখা যায়।.....

শ্রীশুভ চৌধুরী

আগস্ট ২৫, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।

ভাগবতে অদ্বৈতবেদান্তোক্ত দৃগ্-দৃশ্যবিবেক ও প্রতিবিম্ববাদ—

  সনৎকুমার মোক্ষের সাধন উপদেশ করতে গিয়ে বলছেন — দগ্ধাশয়ো মুক্তসমস্ততদ্গুণো নৈবাত্মনো বহিরন্তর্বিচষ্টে । পরাত্মনোর্যদ্ব্যবধানং...