সনৎকুমার মোক্ষের সাধন উপদেশ করতে গিয়ে বলছেন—
দগ্ধাশয়ো
মুক্তসমস্ততদ্গুণো নৈবাত্মনো বহিরন্তর্বিচষ্টে ।
পরাত্মনোর্যদ্ব্যবধানং
পুরস্তাৎ স্বপ্নে যথা পুরুষস্তদ্বিনাশে ॥
-(শ্রীমদ্ভাগবত-৪/২২/২৭)
—যেরূপ পুরুষ
স্বপ্নকালে অনুভূত বিষয়সকল স্বপ্ন বিনষ্ট হলে আর দেখেন
না, সেরূপ আশয় (হৃদয় অর্থাৎ উপাধি) দগ্ধ হলে সে
কর্তৃত্বাদি সমস্ত গুণ থেকে মুক্ত
হয়ে আত্মরতিলাভের পূর্বে যে জীবাত্মা ও
পরমাত্মার ব্যবধান বোধ ছিল, তা
নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আত্মভিন্ন
বাহ্য সুখদুঃখাদি ঘটাাদি পর্যন্ত কোন কিছুই দেখেন
না।
কি
হেতু এরূপ হয়? আচার্য
শ্রীধর স্বামী উক্ত শ্লোকের টীকায়
বলছেন— যেহেতু দ্রষ্টা দৃশ্য প্রভৃতি ভেদ দর্শনের হেতু
অন্তঃকরণ। দৃশ্য পদার্থ ও দ্রষ্টা আত্মার
যে ব্যবধান অর্থাৎ ভেদ পূর্বে ছিল
তার বিনাশ হলে যেরূপ স্বপ্নে
আরোপিত আমি রাজা দ্রষ্টা
দৃশ্য সৈন্যসকল স্বপ্নাবস্থা চলে গেলে আর
দেখেনা, সেরূপ।
দ্রষ্টা
ও দৃশ্যের ভেদপ্রতীতির হেতু যে অন্তঃকরণ
তা অন্বয় ও ব্যতিরেকমুখে উপপাদন
করা হয়েছে পরবর্তী শ্লোকে—
আত্মানমিন্দ্রিয়ার্থং
চ পরং যদুভয়োরপি ।
সত্যাশয়
উপাধৌ বৈ পুমান্ পশ্যতি
নান্যদা ॥
-(শ্রীমদ্ভাগবত-৪/২২/২৮)
—আত্মা অর্থাৎ
দ্রষ্টা, ইন্দ্রিয়ের বিষয় দৃশ্য। তাদের উভয়ের সম্বন্ধের কারণ অহঙ্কারকেও অন্তঃকরণরূপ
উপাধি থাকলেই লোকে (জাগ্রৎ ও স্বপ্নকালে) অনুভব
করে, নচেৎ অর্থাৎ উপাধি
না থাকলে (সুষুপ্তিতে) অনুভব করে না। কথিত
আছে, দৃশ্যানুরঞ্জিত দ্রষ্টা, দ্রষ্টার দ্বারা অনুরঞ্জিত দৃশ্য। উভয়ে অহঙ্কার করে অনুরক্ত হয়,
অহঙ্কার নাশে আত্মার এক
অদ্বৈত সত্তাই অনুভূত হয়।
এক
আত্মাতে দৃশ্যাদি ভেদপ্রতীতি উপাধিবশতঃ হয়, তা দৃষ্টান্ত
দ্বারা পরবর্তী শ্লোকে স্পষ্ট করছেন—
নিমিত্তে
সতি সর্বত্র জলাদাবপি পূরুষঃ ।
আত্মনশ্চ
পরস্যাপি ভিদাং পশ্যতি নান্যদা ॥
-(শ্রীমদ্ভাগবত-৪/২২/২৯)
— লৌকিক জগতেও
পুরুষ সর্বত্র জল দর্পণ প্রভৃতিতে
ভেদের নিমিত্ত থাকলে বিম্বস্বরূপ নিজের ও প্রতিবিম্বের মধ্যে
ভেদ অনুভব করে, কিন্তু জলাদির
অভাব হলে ভেদ অনুভব
করে না।.......
তথ্যসূত্রঃ-
শ্রীমদ্ভাগবতম্, চতুর্থ স্কন্ধ, শ্রীধর স্বামীর ভাবার্থদীপিকা টীকা সমেত, উদ্বোধন
কার্যালয় কলকাতা।
শ্রীশুভ
চৌধুরী
মার্চ
২৪, ২০২৬ খৃষ্টাব্দ।
ছবিটা
Parthasarathi Mitra থেকে
সংগৃহীত।

No comments:
Post a Comment