ভগবান শ্রীগণেশের নিকট পিতামাতা ছিলেন পূজ্য, পৃথিবী ও তীর্থস্বরূপ। শ্রীশিবপুরাণের জ্ঞানসংহিতার পঞ্চত্রিংশ ও ষটত্রিংশ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে- শ্রীগণেশ যথাবিধ স্নানাদি পূর্বক নিজ পিতামাতাকে কহিলেন-'হে পিতা,হে মাতা, আপনাদিগের পূজার্থ এই আসনদ্বয় স্থাপিত করিয়াছি'। তৎশ্রবণে জগদম্বা পার্ব্বতী ও পরমেশ্বর পূজাগ্রহণার্থে আসনে উপবেশন করিলেন। গণেশ তাঁহাদিগকে পূজা করিয়া প্রেমপূর্ণ হৃদয়ে পিতামাতাকে সপ্তবার প্রদক্ষিণ করিলেন।
শ্রীগণেশ
তৎপরে কৃতাঞ্জলীপুটে কহিতে লাগিলেন-হে মাতঃ, হে পিতঃ, আপনারা শ্রবণ করুন, আমি ভ্রাতা
কার্ত্তিকের পূর্ব্বেই সপ্তবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করিলাম। অতএব শীঘ্রই আমার শুভবিবাহ
দিন। তখন উঁহার কহিলেন- হে পুত্র, এই অরণ্যসঙ্কুলা পৃথিবীকে তুমি কখন প্রদক্ষিণ করিলে?
উহা শ্রবণে গণেশ উত্তর করিলেন- আমি যে আপনাদের পূজা করিয়া সপ্তবার প্রদক্ষিণ করিলাম,
উহা কি পৃথিবী প্রদক্ষিণ নহে? ধর্ম্মপ্রবর্ত্তক বেদশাস্ত্রে ঐরূপ কথায় আছে, তবে উহা
কি সত্য নহে?-'যে ব্যক্তি পিতামাতার পূজা করিয়া প্রদক্ষিণ করে তাহার পৃথিবী প্রদক্ষিণরূপ
ফল হয়, ইহাতে সংশয় নাই।পিতামাতার পাদপদ্মই পুত্রের প্রধানতীর্থ, দূরে যাইলে অন্যান্য
তীর্থ পাওয়া যায়, কিন্তু এই তীর্থ সমীপস্থিত, সুলভ ও ধর্ম্মের সাধন।'-বেদাদি শাস্ত্র
ইহাই বলে।
গণেশবাক্য
শ্রবণে হরপার্ব্বতী বিস্মিত হইলেন। অনন্তর শিব ও পার্ব্বতী গণেশকে কহিলেন- 'বৎস, তুমি
যথার্থই কহিয়াছ, তুমি মহাত্মা, তোমার বুদ্ধি নির্ম্মল, বেদাদি শাস্ত্রে যাহা কথিত আছে
তাহাই তুমি করিয়াছ, পিতামাতা প্রদক্ষিণ করিলে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করা হয়।'

No comments:
Post a Comment