Tuesday, 17 September 2024

ভগবানের শ্রীমূর্তির ধ্যানঃ-

 


গোপালপূর্বতাপনী উপনিষদে বর্ণিত আছে

সৎপুণ্ডরীকনয়নং মেঘাভং বৈদ্যুতাম্বরম্

দ্বিভুজং জ্ঞানমুদ্রাঢ্যং বনমালিনমীশ্বরম্

বিকসিত শ্বেতপদ্মসদৃশ যাঁহার নয়ন, মেঘের ন্যায় যাঁহার বর্ণ, যাঁহার বস্ত্র বিদ্যুতের ন্যায় উজ্জ্বল, যিনি দ্বিভুজ, যিনি জ্ঞানমুদ্রার দ্বারা অলংকৃত, তিনি বনমালাবিভূষিত সকলের ঈশ্বর।

টীকাকার বিশ্বেশ্বর অর্থ করেন— "সৎপুণ্ডরীকনয়নং" কি? যাঁহাকে নির্মল হৃৎকমলে লাভ করা যায়। "মেঘাভং" কি? সচ্চিদানন্দস্বরূপ বৈদ্যুতিক আভাবিশিষ্ট হইয়া যিনি উত্তপ্ত মনে শান্তি প্রদান করিতেছেন। "বৈদ্যুতাম্বরম্" কি? যিনি স্বপ্রকাশ চিদাকাশস্বরূপ, যাঁহাকে প্রকাশ করিতে কিছুরই আবশ্যকতা হয় না, যিনি নিজ চিৎস্বরূপে বিদ্যুৎসম প্রকাশিত হইয়া আছেন, তিনিই পীতাম্বর, তাঁহার উজ্জ্বল পীতাম্বর সেই বিদ্যুৎসমান। জগৎসৃষ্টির কারণ হিরণ্যগর্ভ এবং জগতের মূর্তির হেতু বিরাটপুরুষ তাঁহার দুই হস্ত। "জ্ঞানমুদ্রাঢ্যং" কি? যিনি "তত্ত্বমসি" রূপে সচ্চিদানন্দৈকরসাকার-মূর্তিতে প্রকাশমান। "বনমালিনম্" কি? যিনি নির্জন প্রদেশে স্বীয় ভক্তগণের নিকট প্রকাশমান। "ঈশ্বরম্" কি? যিনি ব্রহ্মাদি দেবগণের সকলেরই নিয়ন্তা।

তথ্যসূত্রঃ- গোপালপূর্বতাপনীয় উপনিষদ্, শ্রীবিশ্বেশ্বর টীকা সমেত।

শ্রীশুভ চৌধুরী

আগস্ট ২৫, রবিবার, ২০২৪ খৃষ্টাব্দ।

জীবই শিব, শিবই জীব—

 


কৃষ্ণযজুর্বেদীয় স্কন্দোপনিষদে বর্ণিত আছে

জীবঃ শিবঃ শিবো জীবঃ জীবঃ কেবলঃ শিবঃ।

তুষেণ বদ্ধো ব্রীহিঃ স্যাত্তুষাভাবেন তণ্ডুলঃ॥

এবং বদ্ধস্তথা জীবঃ কর্মনাশে সদাশিবঃ।

পাশবদ্ধস্তথা জীবঃ পাশমুক্তঃ সদাশিবঃ॥

-(স্কন্দোপনিষৎ-,)

জীবই শিব, শিবই জীব; সেই জীবই অদ্বিতীয় শিব; তুষের দ্বারা আবৃত থাকিলেই ধান্য, তুষ হইতে মুক্ত হইলেই তণ্ডুল (চাউল) এই প্রকারে বদ্ধাবস্থায় যে জীব,  কর্মনাশে সেই সদাশিব; তেমনি পাশবদ্ধ হইলেই জীব, পাশমুক্ত হইলেই সদাশিব।....

শ্রীশুভ চৌধুরী

আগস্ট ১৭, শনিবার, ২০২৪ খৃষ্টাব্দ।

হরিহর ব্রহ্ম—

 




কৃষ্ণযজুর্বেদীয় স্কন্দ উপনিষদে বর্ণিত আছে

শিবায় বিষ্ণুরূপায় শিবরূপায় বিষ্ণবে

শিবস্য হৃদয়ং বিষ্ণুঃ বিষ্ণোশ্চ হৃদয়ং শিবঃ

যথা শিবময়ো বিষ্ণুরেবং বিষ্ণুময়ঃ শিবঃ

যথান্তরং পশ্যামি তথা মে স্বস্তিরায়ুষি

-(স্কন্দোপনিষৎ-,)

বিষ্ণুরূপধারী শিবকে এবং শিবরূপধারী বিষ্ণুকে নমস্কার; বিষ্ণু শিবের হৃদয় এবং শিব বিষ্ণুর হৃদয়। বিষ্ণু যে প্রকার শিবময়, শিবও সেইরূপ বিষ্ণুময়; আমার জীবন এইরূপ মঙ্গলময় হউক যেন আমি ভেদ দর্শন না করি; অবান্তর ভেদসমূহের বিনাশের ন্যায় শিব কেশবের ভেদদর্শনও নষ্ট হউক।....

শ্রীশুভ চৌধুরী

আগস্ট , শুক্রবার, ২০২৪ খৃষ্টাব্দ।

সম্মানসূচক পদশূন্য করে গুরুর নাম উচ্চারণ নিষিদ্ধঃ-

 


নোদাহরেদস্য নাম পরোক্ষমপি কেবলম্

চৈবাস্যানুকুর্বীত গতিভাষিতচেষ্টিতম্

-(মনুস্মৃতি, /১৯৯)

গুরুর অগোচরেও তাঁর নাম উপপদ শূন্য অর্থাৎ উপাধ্যায়, আচার্য প্রভৃতি পূজাসূচক-পদ-শূন্য করে উচ্চারণ করবে না এবং উপহাসবুদ্ধিতেও গুরুর গমন, কথা বলা আহারাদি অন্যান্য কাজ করবার ভঙ্গি মোটেই অনুকরণ করবে না।

শ্রীশুভ চৌধুরী

জুলাই ২৮, ২০২৪ খৃষ্টাব্দ।

Monday, 15 July 2024

শ্রীরামকৃষ্ণের দৃষ্টিতে কালীতত্ত্ব—

 


আজ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের শুভ আবির্ভাব তিথি। এই পবিত্র লগ্নে কথামৃত থেকে এই পরম কালীসাধকের শ্রীমুখ নিঃসৃত সেই পরমতত্ত্ব তুলে ধরব।

ব্রহ্ম যদি মা, তাহলে তিনি সাকার না নিরাকার?

শ্রীরামকৃষ্ণযিনি ব্রহ্ম, তিনি কালী (মা আদ্যাশক্তি) যখন নিষ্ক্রিয়, তাঁকে ব্রহ্ম বলে কই। যখন সৃষ্টি, স্থিতি, প্রলয়এই সব কাজ করেন, তাঁকে শক্তি বলে কই। স্থির জল ব্রহ্মের উপমা। জল হেলচে দুলচে, শক্তি বা কালীর উপমা। কালী! কিনাযিনি মহাকালের (ব্রহ্মের) সহিত রমণ করেন। কালীসাকার আকার নিরাকারা।”......

যিনি ব্রহ্ম, তিনিই শক্তি, তিনিই মা।প্রসাদ বলে মাতৃভাবে আমি তত্ত্ব করি যাঁরে।

সেটা চাতরে কি ভাঙবো হাঁড়ি, বোঝনা রে মন ঠারে ঠোরে " “আমি তত্ত্ব করি যাঁরে" অর্থাৎ আমি সেই ব্রহ্মের তত্ত্ব করছি। তাঁরেই মা মা বলে ডাকছি। আবার রামপ্রসাদ ওই কথাই বলছে,—"আমি কালীব্রহ্ম জেনে মর্ম, ধর্মাধর্ম সব ছেড়েছি।"

ধর্মাধর্ম ত্যাগ করলে কি বাকি থাকে?

শ্রীরামকৃষ্ণশুদ্ধাভক্তি। আমি মাকে বলেছিলাম, মা! এই লও তোমার ধর্ম, এই লও তোমার অধর্ম, আমায় শুদ্ধাভক্তি দাও; এই লও তোমার পাপ, আমায় শুদ্ধাভক্তি দাও; এই লও তোমার জ্ঞান, এই লও তোমার অজ্ঞান, আমায় শুদ্ধাভক্তি দাও! দেখ, জ্ঞান পর্যন্ত আমি চাই নাই। আমি লোকমান্যও চাই নাই। ধর্মাধর্ম ছাড়লে শুদ্ধাভক্তিঅমলা, নিষ্কাম, অহেতুকী ভক্তিবাকি থাকে।

এই আদ্যাশক্তি দর্শন আর ওই ব্রহ্মজ্ঞান, কি উপায়ে হতে পারে?

শ্রীরামকৃষ্ণব্যাকুল হৃদয়ে তাঁকে প্রার্থনা করো। আর কাঁদো! এইরূপে চিত্তশুদ্ধি হয়ে যাবে। নির্মল জলে সূর্যের প্রতিবিম্ব দেখতে পাবে। ভক্তের আমিরূপ আরশিতে সেই সগুণ ব্রহ্ম আদ্যাশক্তি দর্শন করবে। কিন্তু আরশি খুব পোঁছা চাই। ময়লা থাকলে ঠিক প্রতিবিম্ব পড়বে না।

যতক্ষণআমিজলে সূর্যকে দেখতে হয়, সূর্যকে দেখবার আর কোনরূপ উপায় হয় না। আর যতক্ষণ প্রতিবিম্ব সূর্যকে দেখবার উপায় নাই, ততক্ষণ প্রতিবিম্ব সূর্যই ষোল আনা সত্যযতক্ষণ আমি সত্য ততক্ষণ প্রতিবিম্ব সূর্যও সত্যষোল আনা সত্য। সেই প্রতিবিম্ব সূর্যই আদ্যাশক্তি। ব্রহ্মজ্ঞান যদি চাওসেই প্রতিবিম্বকে ধরে সত্য সূর্যের দিকে যাও। সেই সগুণ ব্রহ্ম, যিনি প্রার্থনা শুনেন তাঁরেই বলো, তিনিই সেই ব্রহ্মজ্ঞান দিবেন। কেননা, ইনিই সগুণ ব্রহ্ম, তিনিই নির্গুণ ব্রহ্ম, যিনিই শক্তি, তিনিই ব্রহ্ম। পূর্ণজ্ঞানের পর অভেদ।

তথ্যসূত্রঃ- শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত।

শ্রীশুভ চৌধুরী

মার্চ ১২, ২০২৪ খৃষ্টাব্দ।

শিক্ষাষ্টকঃ-

 


আজ পরম কৃষ্ণভক্ত শ্রীচৈতন্য ভারতীর আবির্ভাব তিথি। প্রেমের অবতার মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের দিব্যোন্মাদ-দশায় তাঁরই শ্রীমুখপদ্ম-বিনিঃসৃত এই "শিক্ষাষ্টক"

চেতোদর্পণমার্জনং ভবমহাদাবাগ্নি-নির্বাপণং

শ্রেয়ঃকৈরবচন্দ্রিকা বিতরণং বিদ্যাবধূজীবনম্।

আনন্দাম্বুধিবর্দ্ধনং প্রতিপদং পূর্ণামৃতাস্বাদনং

সর্বাত্মস্নপনং পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসংকীর্তনম্।।১

ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র নাম চিত্তরূপ দর্পণকে মার্জন করে, জন্ম-মৃত্যুরূপ সংসার-দাবানলকে নির্বাপণ করে। সন্ধ্যায় যেমন চন্দ্রের শীতলজ্যোৎস্নায় কুমুদপুষ্প বিকশিত হয়, সেরূপ শ্রীকৃষ্ণনামরূপ অমৃতধারায় হৃদয়-উল্লসিত হয় এবং শেষে আত্মার অন্তর্নিহিত ভাব-সম্পদ কৃষ্ণপ্রেম জাগ্রত হয়। সেই প্রেমামৃত পুনঃ পুনঃ আস্বাদন করে আত্মা প্রেমপারাবারে পরিপূর্ণ নিমজ্জিত হয়। আত্মার যাবতীয় বিভাব পরিপূর্ণ সন্তোষ লাভ করে এবং পবিত্র হয় এবং সর্বশেষে শ্রীকৃষ্ণনামের প্রভাব বিজয় লাভ করে।

নাম্নামকারি বহুধা নিজসর্বশক্তি-

স্তত্রার্পিতা নিয়মিতঃ স্মরণে কালঃ।

এতাদৃশী তব কৃপা ভগবন্মমাপি

দুর্দৈবমীদৃশমিহাজনি নানুরাগঃ।।২

হে ভগবান্! তোমার পবিত্র নাম সকলের উপর কল্যাণ বর্ষণ করে। আর তোমার কৃষ্ণ, গোবিন্দ প্রভৃতি অসংখ্য নাম আছে যার মাধ্যমে তুমি নিজেকে প্রকাশ করে থাক। তুমি দয়া করে নিজের সর্বশক্তি নামের মধ্যেই নিহিত করেছ। আর নামকীর্তনে স্থান কালের কোন নিয়ম রাখেন নি। তুমি অহৈতুকী কৃপা করে নামরূপে অবতীর্ণ হয়েছ। কিন্তু আমার এমনই দুর্দৈব, সেই নামে আমার কোন অনুরাগ হল না।

তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুনা।

অমানিনা মানদেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ।।৩

যে সাধক তৃণ হতেও সুনীচ, বৃক্ষের চেয়েও সহিষ্ণু, যে অপরকে যথাযথ সম্মান দেয়, কিন্তু নিজে কারও কাছ থেকে সম্মান চায় না, সেই- হরিনাম-কীর্তনের যথার্থ অধিকারী।

ধনং জনং সুন্দরীং

কবিতাং বা জগদীশঃ কাময়ে।

মম জন্মনি জন্মনীশ্বরে

ভবতাদ্ভক্তিরহৈতুকী ত্বয়ি।।৪

হে জগদীশ! আমি ধন চাই না, অনুগামী লোকজন চাই না, সুন্দরী নারী, কাব্য কবিতা এসব কিছুই চাই না। জন্মে জন্মে যেন তোমার ভক্তি করতে পারি।

অয়ি নন্দতনুজ কিঙ্করং

পতিতং মাং বিষমে ভবাম্বুধৌ।

কৃপয়া তব পাদপঙ্কজ-

স্থিতধূলীসদৃশং বিচিন্তয়।।৫

হে নন্দতনুজ! আমি তোমার নিত্য দাস। তথাপি আমি নিজ কর্মদোষে এই জন্ম-মৃত্যুর সংসার-সাগরে নিমজ্জিত হয়েছি। এই পতিতাধমকে তুমি দাস বলে গ্রহণ কর এবং তোমার শ্রীচরণের একটি ধূলিকণারূপে মনে কর।

নয়নং গলদশ্রুধারয়া

বদনং গদ্গদ্রুদ্ধয়া গিরা।

পুলকৈর্নিচিতং বপুঃ কদা

তব নামগ্রহণে ভবিষ্যতি।।৬

হে নাথ! এমন দিন কবে হবেযখন তোমার নামকীর্তন করতে করতে শ্রাবণের বারিধারার মত আমার চোখের জল নেমে আসবে। গলার স্বর প্রেমানন্দে কাঁপবে, শরীরে রোমাঞ্চ হবে।

যুগায়িতং নিমেষেণ চক্ষুষা প্রাবৃষায়িতম্।

শূন্যায়িতং জগৎ সর্বং গোবিন্দবিরহেণ মে।।৭

হে গোবিন্দ! তোমার বিচ্ছেদে সমস্ত জগৎ শূন্য দেখছি। বর্ষার বারিধারার মত আমি চোখের জলে ভাসছি। তোমার বিরহে এক নিমেষও যুগের মত মনে হয়।

আশ্লিষ্য বা পাদরতাং পিনষ্টু মাম্

অদর্শনান্মর্মহতাং করোতু বা।

যথা তথা বা বিদধাতু লম্পটো

মৎপ্রাণনাথস্তু এব নাপরঃ।।

শ্রীকৃষ্ণ আমায় ভালবেসে আলিঙ্গনই করুক, কিংবা তাঁর পদতলে পিষেই ফেলুক, আমাকে দেখা না দিয়ে আমার হৃদয়কে পুড়িয়ে ছারখারই করুক, সে লম্পট যা ইচ্ছা তাঁর তাই করুক, তথাপি তিনিই আমার প্রাণনাথ, আর কেউ নয়।.…….

শ্রীশুভ চৌধুরী

দোল পূর্ণিমা, ২০২৪ খৃষ্টাব্দ।

অক্ষয় তৃতীয়া

 


বৈশাখ মাসের শুক্লাতৃতীয়াকে অক্ষয় তৃতীয়া বলে। এই দিনে স্নান, দান, তপ, শ্রাদ্ধ এবং হোম ইত্যাদি অনুষ্ঠান করলে তা সকলই অক্ষয় ফল দান করে।

বৈশাখমাসস্য তু যা তৃতীয়া নবম্যসৌ কার্তিকশুক্লপক্ষে।

নভস্যমাসস্য তমিস্রপক্ষে ত্রয়োদশী পঞ্চদশী মাঘে ৷৷

এতা যুগাদ্যাঃ কথিতাঃ পুরাণৈ- রনন্তপুণ্যাস্তিথয়শ্চতস্রঃ।

-(বিষ্ণুপুরাণ তৃতীয়াংশ, অধ্যায় ১৪, ১২-১৩)

বৈশাখমাসের শুক্লা তৃতীয়া, কার্তিকের শুক্লা নবমী, ভাদ্রমাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশী এবং মাঘ মাসের অমাবস্যা চার তিথিকে পুরাণেযুগাদ্যানামে অভিহিত করা হয়। এই চারতিথি অনন্ত পুণ্যদায়িনী। এই চার দিবসে শ্রাদ্ধাদি করলে, অনন্ত ফললাভ হয়।

অথান্যামপি বক্ষ্যামি তৃতীয়াং সর্বকামদাম্।

যস্যাংদত্তং হুতং জপ্তং সর্বং ভবিত চাক্ষয়ম্।।

বৈশাখশুক্লপক্ষে তু তৃতীয়া যৈরুপোষিতা।

অক্ষয়ফলমাপ্নোতি সর্বস্য সুকৃতস্য চ।।

সা তথা কৃত্তিকোপেতা বিশেষনে সুপূজিতা।

তত্র দত্তং হুতং জপ্তং সর্বক্ষয়মুচ্যতে।।

-(মৎস্যপুরাণ, ৬৫, -)

অনন্তর অপর এক সর্বকামদায়িনী তৃতীয়া তিথির বিষয় বলছি। এই তিথিতে দান, হোম, জপ ইত্যাদি যা কিছু করা যায়, সে সকলই অক্ষয় হয়ে যায়। বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষীয় তৃতীয়া তিথিতে যে সকল ব্যক্তি উপবাস করে, তারা নিখিল সুকৃতি সঞ্চয়ের অক্ষয় ফল লাভ করে। এই তৃতীয়া তিথি কৃত্তিকানক্ষত্রে অন্বিতা হলে সবিশেষ প্রশস্ত হয়। তাতে দান, হোম বা জপ যে কিছু করা যায়, তা সকলই অক্ষয় ফলজনক বলে শাস্ত্রে কীৰ্ত্তিত।.....

শ্রীশুভ চৌধুরী

অক্ষয় তৃতীয়া, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।

ভাগবতে অদ্বৈতবেদান্তোক্ত দৃগ্-দৃশ্যবিবেক ও প্রতিবিম্ববাদ—

  সনৎকুমার মোক্ষের সাধন উপদেশ করতে গিয়ে বলছেন — দগ্ধাশয়ো মুক্তসমস্ততদ্গুণো নৈবাত্মনো বহিরন্তর্বিচষ্টে । পরাত্মনোর্যদ্ব্যবধানং...