বামন পুরাণের সপ্তষষ্টিতমোহধ্যায়ে ভগবান রুদ্র তাহার অহঙ্কারাচ্ছন্ন গণদিগকে বলিতেছেন-'তোমরা অহঙ্কারে হতজ্ঞান হইয়া বৈষ্ণব-পদের নিন্দা করিয়া থাক, পরন্তু ভক্তি ও ভাবাবেশে হরের অর্চনায় নিরত হও। যিনি সেই ভগবান বিষ্ণু তিনিই আমি এবং যে আমি, সেই বিষ্ণু; কিন্তু তোমরা অজ্ঞানোপহত হইয়াই আমাদের এই অক্ষুণ্ণ সাদৃশ্য নিরূপণ করিতে অক্ষম। বস্তুত আমাদের মধ্যে কোনই বিশেষত্ব নাই। আমাদের একই মূর্ত্তি দ্বিধারূপে অবস্থিত। ভক্তিমান নরশ্রেষ্ঠগণ আমাকে যে প্রকারে জানেন, হরিকেও সেইরূপ অবগত আছেন; কিন্তু তোমরা সেইরূপ অভেদজ্ঞান কর না। তোমাদের বুদ্ধি মোহাচ্ছন্ন বলিয়াই হরিকে তোমরা নিন্দা করিয়া থাক। আর হরিনিন্দা কর বলিয়াই তোমাদের জ্ঞান বিলুপ্ত হইয়াছে এবং আমিও সেইজন্যই তোমাদিগকে আলিঙ্গন দেই নাই।'২৬-২৯
অপরদিকে
দেবীভাগবতম্ পুরাণের ষষ্ঠস্কন্ধের অষ্টাদশোহধ্যায়ে লক্ষ্মীদেবী ভগবান শ্রীবিষ্ণুকে
প্রশ্ন করিতেছেন-'এক্ষণে তুমি আবার কাহার ধ্যান করিতেছিলে? ইহাতে যে আমার মহান সন্দেহ
উপস্থিত হইতেছে। অতএব হে পরমপ্রিয় কৈটভারে! অনুগ্রহপূর্বক আমায় মনোগতভাব বল। ভগবান
বিষ্ণু বলিলেন-কান্তে! তবে শুন বলি আমি সেই সুরোত্তম আশুতোষ গিরিজাবল্লভ মহেশ্বরকেই
হৃদয়মধ্যে ধ্যান করিতেছিলাম। কখন সেই অমিতবিক্রম দেবদেবও আমায় ধ্যান করেন এবং আমিও
কখন সেই ত্রিপুরান্তক দেবদেব শঙ্করকে ধ্যান করিয়া থাকি। আমি যেমন ভগবান শঙ্করের প্রাণস্বরূপ,
তিনিও আমার তদ্রূপ। আমাদের উভয়ের কিছুমাত্র প্রভেদ নেই। উভয়ের চিত্তই উভয়ের প্রতি সর্বদা
আসক্ত। হে বিশালাক্ষি! আমি সত্যই বলিতেছি আমার যে সকল ভক্তগণ মহেশ্বরকে দ্বেষ করে তাহারা
নিশ্চয় নরকে যাইবে।৪৩-৪৭
কূর্মপুরাণেও ভগবান শিব মেঘ-গম্ভীরস্বরে কেশিহন্তা শ্রীকৃষ্ণকে বলিতে লাগিলেন—"ত্বং হি সা পরমা মূর্ত্তির্মম নারায়ণাহ্বয়া", হে পুরুষোত্তম! আপনিই আমার নারায়ণনাম্নী পরমা মূর্ত্তি। -(কূর্ম্মমহাপুরাণ, পূর্বভাগ, পঞ্চবিংশ অধ্যায়-৮২)
তথ্যসূত্রঃ-
বামনপুরাণ, কূর্মপুরাণ ও দেবীভাগবতম্ আচার্য্য পঞ্চানন তর্করত্ন সম্পাদিত ও শ্রীজীব ন্যায়তীর্থ
কর্তৃক পরিদৃষ্ট।
....…..........................................................
শ্রীশুভ
চৌধুরী।
নভেম্বর
১৫, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ।

No comments:
Post a Comment