॥ নারায়ণসূক্তম্ ॥
সহস্র শীর্ষং দেবং বিশ্বাক্ষং বিশ্বশংভুবম্
।
বিশ্বৈ নারায়ণং দেবং অক্ষরং পরমং
পদম্ ॥১
ভাবার্থঃ-অনন্তমস্তক, অনন্তচক্ষু, নিখিল মঙ্গলের নিদান, জগদাত্মা, সর্বদেবস্বরূপ, বিকারহীন, পরমপ্রভু ও স্বয়ংপ্রকাশ নারায়ণকে
ধ্যান করি।১
বিশ্বতঃ পরমান্নিত্যং বিশ্বং নারায়ণং হরিম্ ।
বিশ্বং এব ইদং পুরুষঃ
তদ্বিশ্বং উপজীবতি ॥২
ভাবার্থঃ-জড়বর্গ হইতে উৎকৃষ্ট, নিত্য,
সর্বাত্মক, পাপ ও অজ্ঞানের
নাশক নারায়ণকে ধ্যান করি; এই বিশ্ব
বস্তুতঃ পরমাত্মাই; সেই বিশ্বকে পরমাত্মা
নিজ ব্যবহারার্থ আশ্রয় করেন।২
পতিং বিশ্বস্য আত্মা
ঈশ্বরং শাশ্বতং শিবমচ্যুতম্ ।
নারায়ণং মহাজ্ঞেয়ং বিশ্বাত্মানং পরায়ণম্ ॥৩
ভাবার্থঃ- জগতের পালক, জীববর্গের নিয়ন্তা, নিত্য বর্তমান, পরম মঙ্গল, বিচ্যুতিশূন্য,
সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞেয়, জগতের আত্মা ও সর্বোত্তম আশ্রয়
নারায়ণকে ধ্যান করি।৩
নারায়ণ পরো জ্যোতিরাত্মা নারায়ণঃ
পরঃ ।
নারায়ণ পরং ব্রহ্ম তত্ত্বং
নারায়ণঃ পরঃ ।
নারায়ণ পরো ধ্যাতা ধ্যানং
নারায়ণঃ পরঃ ॥৪
ভাবার্থঃ-নারায়ণই উত্তম ব্রহ্মতত্ত্ব; নারায়ণই স্বরূপতঃ পরব্রহ্ম; নারায়ণ পরম জ্ঞানস্বরূপ; নারায়ণ
পরমাত্মা; নারায়ণেরই ধ্যান হইয়া থাকে, এবং
ধ্যানও সর্বোত্তম নারায়ণ।৪
য়চ্চ কিংচিৎ জগৎ সর্বং দৃশ্যতে শ্রূয়তেঽপি বা ।
অংতর্বহিশ্চ তৎসর্বং ব্যাপ্য নারায়ণঃ স্থিতঃ ॥৫
ভাবার্থঃ- যাহা কিছু জাগতিক
বস্তু দৃষ্ট বা শ্রুত হয়,
সেই সমস্তকে অন্তরে এবং বাহিরে ব্যপ্ত
করিয়া নারায়ণ বর্তমান আছেন।৫
অনন্তং অব্যয়ং কবিং সমুদ্রেন্তং বিশ্বশংভুবম্
।
পদ্ম কোশ প্রতীকাশং
হৃদয়ং চ অপি অধোমুখম্
॥৬
ভাবার্থঃ-অনন্ত, বিনাশরহিত, সর্বজ্ঞ, সংসারসাগরের অন্তস্বরূপ এবং সকল সুখের
কারণকে উপসনা করি। হৃদয়দেশ পদ্মের
মধ্যস্থলের ন্যায়; কিন্তু উহা অধোমুখ।৬
অধো নিষ্ঠ্যা বিতস্ত্যান্তে
নাভ্যাম্ উপরি তিষ্ঠতি ।
জ্বালামালাকুলং ভাতী বিশ্বস্যায়তনং মহত্
॥৭
ভাবার্থঃ- গ্রীবাসংযোগের নিম্নে ও নাভিদেশ হইতে
দ্বাদশ অঙ্গুলি পরিমিত স্থান উর্ধ্বে উক্ত হৃদয় বিদ্যমান
আছে বলিয়া জানিবে; উহা বিশ্বের মহৎ
আয়তন।৭
সন্ততং শিলাভিস্তু লম্বত্যা কোশসন্নিভম্ ।
তস্যান্তে সুষিরং সূক্ষ্মং তস্মিন্ সর্বং প্রতিষ্ঠিতম্ ॥৮
ভাবার্থঃ-পদ্মমুকুলসদৃশ ঐ হৃদয় নাড়ীসমূহের
দ্বারা পরিব্যপ্ত হইয়া লম্বিত রহিয়াছে;
তাহার সমীপে সূক্ষ্ম ছিদ্র আছে; ঐ ছিদ্রমধ্যে
এই সমস্ত জগৎ প্রতিষ্ঠিত অর্থাৎ
সর্বজগৎকারণ ব্রহ্ম অনুভূত হন।৮
তস্য মধ্যে মহানগ্নিঃ
বিশ্বার্চিঃ বিশ্বতো মুখঃ ।
সোঽগ্রবিভজংতিষ্ঠন্ আহারং অজরঃ কবিঃ ॥
তির্যগূর্ধ্বমধশ্শায়ী রশ্ময়ঃ তস্য সন্ততা।৯
ভাবার্থঃ-ঐ ছিদ্রমধ্যে বহুশিখাযুক্ত,
বহুরূপযুক্ত বিশাল অগ্নি আছেন; সেই অগ্নি সম্মুখে
প্রাপ্ত অন্ন আহার করেন;
তিনি ভুক্ত অন্নকে সর্বায়বে প্রসারিত করিয়া অবস্থিত থাকিলেও স্বয়ং জীর্ণ হন না; সুতরাং
তিনিই দেহের সর্বত্র প্রসারিত জ্ঞাতা এবং তাঁহারই চৈতন্য
দেহের সর্বত্র ব্যাপ্ত।৯
সন্তাপয়তি স্বং দেহমাপাদতলমাস্তকঃ ।
তস্য মধ্যে বহ্নিশিখা
অণীয়োর্ধ্বা ব্যবস্থিতাঃ ॥১০
ভাবার্থঃ- তিনি স্বীয় দেহকে
আপাদমস্তক উত্তাপিত করেন। উক্ত অগ্নির একটি
অতিসূক্ষ্ম শিখা ব্রহ্মরন্ধ্র পর্যন্ত
প্রসারিত আছে। ১০
নীলতোয়দ-মধ্যস্থ-দ্বিদ্যুল্লেখেব ভাস্বরা ।
নীবারশূকবত্তন্বী পীতা ভাস্বত্যণূপমা ॥১১
ভাবার্থঃ-উক্ত শিখা নীল
মেঘের মধ্যস্থ বিদ্যুৎরেখার ন্যায় উজ্জল, নীবার বীজের শিষের ন্যায় সূক্ষ্ম, উহা পীতবর্ণ, দীপ্তিমান
ও অতিসূক্ষ্ম অণুর তুল্য।১১
তস্যাঃ শিখায়া মধ্যে পরমাত্মা ব্যবস্থিতঃ ।
স ব্রহ্ম স
শিবঃ স হরিঃ স
ইন্দ্রঃ সোঽক্ষরঃ পরমঃ স্বরাট্ ॥১২
ভাবার্থঃ-সেই শিখার মধ্যে
পরমাত্মা বিশেষরূপে প্রকটিত, তিনিই ব্রহ্মা, তিনিই শিব, তিনিই হরি,
তিনিই ইন্দ্র, তিনিই অন্তর্যামী ঈশ্বর এবং মায়াতীত স্বপ্রকাশ।১২
ঋতং সত্যং পরং
ব্রহ্ম পুরুষং কৃষ্ণ পিঙ্গলম্ ।
ঊর্ধ্বরেতং বিরূপাক্ষং বিশ্বরূপায় বৈ নমো নমঃ
॥
যিনি পরব্রহ্ম তিনিই
পারমার্থিক সত্যস্বরূপ; তিনি পুরুষাকার কৃষ্ণবর্ণ
ও পিঙ্গলবর্ণ, ঊর্ধ্বরেতা এবং ত্রিনেত্র; সেই বিশ্বরূপকে নমস্কার।
ॐ নারায়ণায় বিদ্মহে
বাসুদেবায় ধীমহি ।
তন্নো বিষ্ণুঃ প্রচোদয়াত্ ॥
ॐ শান্তি শান্তি
শান্তিঃ ॥
তৈত্তিরীয়ারণ্যকম্,
প্রপাঠকঃ - ১০ অনুবাকঃ
- ১৩

No comments:
Post a Comment