Sunday, 28 April 2024

শিবের হস্তে পরশু এবং মৃগ কেন?

 


আচার্য নরহরি বোধসারে মহেশ্বর শিবের প্রসিদ্ধ ধ্যানমন্ত্রে উল্লিখিত "পরশুমৃগবরাভীতিহস্তং" এই পদের অর্থ বিবৃত করেছেন।

"পরশুহস্তম্"—

যেন মোহবনং ছিন্নং কদাচিন্ন প্ররোহতি।

বোধঃ পরশু স্তীক্ষ্ণো হস্তে রুদ্রস্য বর্ত্ততে।।

যে জীবব্রহ্মৈক্যজ্ঞানরূপ কুঠার দ্বারা ছিন্ন হইলে, (কাম ক্রোধাদি হিংস্র পশুনিবাসরূপ) মোহবন বা অজ্ঞান আর অঙ্কুরিত হইতে পারে না, সেই জ্ঞানপরশু, গুরুরূপী পরমাত্মা রুদ্রের হস্তে বিদ্যমান।

"মৃগহস্তম্"—

ধর্ত্তুং শক্যতে ধীরৈর্যোধৃতোঽপি পলায়তে।

লীলয়ৈব ধৃতো হস্তে শম্ভুনা মনোমৃগঃ।।

ব্রহ্মচর্য্যাদিসাধনসম্পন্ন সাধকগণ, বারবার অকৃতকার্য্য হইয়া অধ্যবসায় প্রয়োগেও, যে মনোমৃগকে ধরিতে পারেন না, অথবা ধরিতে পারিলেও যে পলাইয়া যায়, সেই মনোমৃগকে শম্ভু অনায়াসে এক হাতে ধরিয়া রাখিয়াছেন। মৃগ্ ধাতুর অর্থ অনুসন্ধান; মন নিরন্তর বিষয়ানুসন্ধাননিরত বলিয়া মৃগের সহিত উপমিত হয়। (মধ্যমা অনামিকাঙ্গুলির অগ্রভাগ অঙ্গুষ্ঠের অগ্রভাগের সহিত সংযুক্ত করিয়া অপরাঙ্গুলিদ্বয় উদ্ধৃত করিলে 'মৃগমুদ্রা' হয়। মনোনিগ্রহ উক্ত মুদ্রার ফল বলিয়া শাস্ত্রমুখে শুনা যায়।)

তথ্যসূত্রঃ- আচার্য নরহরি বিরচিত বোধসারঃ, শ্রীদুর্গাচরণ চট্টোপাধ্যায় অনূদিত।

শ্রীশুভ চৌধুরী

এপ্রিল ২৬, শুক্রবার, ২০২৪ খৃষ্টাব্দ।

No comments:

Post a Comment

ভাগবতে অদ্বৈতবেদান্তোক্ত দৃগ্-দৃশ্যবিবেক ও প্রতিবিম্ববাদ—

  সনৎকুমার মোক্ষের সাধন উপদেশ করতে গিয়ে বলছেন — দগ্ধাশয়ো মুক্তসমস্ততদ্গুণো নৈবাত্মনো বহিরন্তর্বিচষ্টে । পরাত্মনোর্যদ্ব্যবধানং...