মানব ধৰ্ম্মশাস্ত্রে ভৃগুপ্রোক্তায়াং সংহিতায়াং ষষ্ঠোহধ্যায়ঃ এ বর্ণিত আছে-
ধৃতিঃ
ক্ষমা দমোঽস্তেয়ং শৌচমিন্দ্রিয়নিগ্রহঃ |
ধীর্বিদ্যা
সত্যমক্রোধো দশকং ধর্মলক্ষণম্ ||
দশ
লক্ষণানি ধর্মস্য যে বিপ্রাঃ সমধীয়তে।
অধীত্য
চানুবর্তন্তে তে যান্তি পরমা গতিম্ || -(মনুস্মৃতি,৬।৯২,৯৩)
মেধাতিথি
ভাষ্য ও কুল্লূকভট্টের মন্বর্থমুক্তাবলী টীকানুারে বঙ্গানুবাদঃ-'ধৃতি অর্থাৎ সন্তোষ,
ক্ষমা, দম অর্থাৎ ঔদ্ধত্য না থাকা তথা বিদ্যাপ্রভৃতি জনিত যে উদ্ধতভাব তা ত্যাগ করা,
অস্তেয় অর্থাৎ অন্যায়পূর্বক পরধন হরণ না করা, শৌচ অর্থাৎ বাহ্য ও অভ্যন্তর শুচিতা রক্ষা
করা তথা আহার প্রভৃতি বিষয়ে শুদ্ধি, ইন্দ্রিয় নিগ্রহ অর্থাৎ ইন্দ্রিয়সমূহের স্ব স্ব
বিষয় হইতে ইন্দ্রিয়গুলোকে প্রত্যাবৃত্ত করানো, ধী অর্থাৎ প্রতিপক্ষের সংশয়াদি নিরাকরণপূর্বক
সম্যক্ জ্ঞান প্রাপ্তি, বিদ্যা অর্থাৎ আত্মজ্ঞান (ধী ও বিদ্যা-এ দুটির মধ্যে প্রভেদ
এই যে-প্রথমটি কর্ম্মজ্ঞান ও দ্বিতীয়টি অধ্যাত্মজ্ঞান), সত্য এবং অক্রোধ'- এই দশটি
ধর্ম্মের লক্ষণ অর্থাৎ স্বরূপ। যে সব বিপ্রব্রাক্ষণ ধর্মের এই দশটি লক্ষণ অধ্যয়ন করেন
এবং আত্মজ্ঞান সহকারে ইহার অনুষ্ঠান করেন, তাঁহারা ব্রহ্মজ্ঞানের উৎকর্ষজন্য মোক্ষরূপ পরমগতি লাভ করেন।
মানব
ধৰ্ম্মশাস্ত্রে ভৃগুপ্রোক্তায়াং সংহিতায়াং দশমোহধ্যায়ঃ এ বর্ণিত আছে-
অহিসাং
সত্যমস্তেয়ং শৌচমিন্দ্রিয়নিগ্রহঃ |
এতং
সামাসিকং ধর্মং চাতুর্বর্ণ্যেঽব্রবীন্ মনুঃ ||-(মনুস্মৃতি-১০।৬৩)
মেধাতিথি
ভাষ্য ও কুল্লূকভট্টের মন্বর্থমুক্তাবলী টীকানুারে বঙ্গানুবাদঃ- অহিংসা অর্থাৎ জীবিকার
জন্য যেসব প্রাণী বধ্য বলিয়া নির্দিষ্ট আছে তদ্ ব্যতীত অন্যপ্রাণীর প্রতি হিংসা ত্যাগ,
পরধনহরণ ইত্যাদি ত্যাগপূর্বক সত্য কথা বলা, মৃত্তিকা জল প্রভৃতি দ্বারা শরীরশুদ্ধি
এবং ইন্দ্রিয়সংযম- এই চারটি ধর্ম বর্ণজাতি নির্বিশেষে সর্বমনুষ্যের পক্ষে সাধারণ ধর্ম
অর্থাৎ সর্বসাধারণের অনুষ্ঠেয় বলে জানতে হবে।

No comments:
Post a Comment