শ্রীমদ্ভাগবতের একাদশ স্কন্ধের ২৮শ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে—
এষ
স্বয়ঞ্জ্যোতিরজোঽপ্রমেয়ো
মহানুভূতিঃ সকলানুভূতিঃ। একোঽদ্বিতীয়ো বচসাং বিরামে
যেনেষিতা
বাগসবশ্চরন্তি॥ ৩৫॥
এই
স্বয়ংজ্যোতি (স্বপ্রকাশ), জন্মরহিত, অপ্রমেয় অর্থাৎ প্রত্যক্ষাদি প্রমাণের অগোচর, মহানুভূতি (চিদ্ঘন অর্থাৎ দেশ বা কালের
দ্বারা পরিচ্ছিন্ন নয় বলিয়া, উহার
অস্তিত্ব বৃদ্ধি বিপরিণাম অপক্ষয় এবং বিনাশরূপ বিকারের
সম্ভাবনা নাই), সকলানুভূতি (সর্বজ্ঞ), এক অদ্বিতীয় আত্মা
আছেন। বাক্যের দ্বারা তাঁহাকে বর্ণনা করা যায় না।
তাঁহার দ্বারা প্রেরিত হইয়া বাক্য এবং ইন্দ্রিয়সমূহ স্বস্ববিষয়ে
প্রবৃত্ত হয়।
'একঃ' এবং
'অদ্বিতীয়ঃ' পদ দুইটির দ্বারা
আত্মার সকল প্রকার ভেদ
নিষিদ্ধ হইল। এবং এক
অদ্বিতীয় আত্মায় ভেদকল্পনা যে অজ্ঞানপ্রসূত তা
পরবর্তীতে বর্ণিত হইতেছে। যথা—
এতাবানাত্মসম্মোহো
যদ্বিকল্পস্তু কেবলে।
আত্মন্নৃতে
স্বমাত্মানমবলম্বো ন যস্য হি॥
৩৬॥
অর্থাৎ
এক অদ্বিতীয় আত্মাতে যে ভেদভাবের প্রতীতি
হয় উহা মনের ভ্রম
মাত্র। কারণ আত্মা হইতে
অন্য ভেদজ্ঞানের আশ্রয় নাই। শুক্তিতে যে
রজত ভ্রম হয় সেই
ভ্রমজ্ঞানের আশ্রয় শুক্তি; শুক্তি ব্যতীত দ্বিতীয় কোন পদার্থ ভ্রমজ্ঞানের
পূর্বে, ঐ সময়ে বা
ভ্রমজ্ঞান চলিয়া যাওয়ার পর থাকে না।.........
শ্রীশুভ
চৌধুরী
জানুয়ারি
৩১, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।

No comments:
Post a Comment