নিত্য, জন্মরহিত, এবং ব্রহ্মাদি স্থাবর পর্যন্ত সর্বভূতের ঈশ্বর হয়েও স্বীয় মায়া দ্বারা ভগবান্ নারায়ণ সাধুদিগের রক্ষা, দুষ্টদিগের বিনাশ এবং ধর্মসংস্থাপনের জন্য যুগে যুগে অবতীর্ণ হন। শ্রীমদ্ভাগবতের "অবতারা হ্যসঙ্খ্যেয়া হরেঃ সত্ত্বনিধের্দ্বিজাঃ"—এই শ্লোকে ভগবানের অসংখ্য অবতারের কথায় বলা হয়েছে। অক্ষয় সরোবর থেকে যেমন অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলধারা নির্গত হয়, সেরূপ শুদ্ধসত্ত্বাত্মক ভগবান্ শ্রীহরি থেকে অসংখ্য অবতারগণ আবির্ভূত হয়ে থাকেন। শাস্ত্রে যে সকল অবতারের কথা বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে যেটি বিশেষ তার সম্বন্ধে ভাগবতে বলা হয়েছে—
এতে
চাংশকলাঃ পুংসঃ কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ম্ ।
ইন্দ্রারিব্যাকুলং
লোকং মৃড়য়ন্তি যুগে যুগে ॥
-(শ্রীমদ্ভাগবত, ১ম
স্কন্ধ, ৩য় অধ্যায় -২৮)
—শাস্ত্রোক্ত সমস্ত
অবতারই ভগবান্ নারায়ণের অংশ বা কলারূপে দেবদ্বেষী
অসুরদের দ্বারা উৎপীড়িত পৃথিবীকে যুগে যুগে সুখী করেছেন। কিন্তু কৃষ্ণই স্বয়ং ভগবান্ নারায়ণ।
আচার্য
শ্রীধর স্বামী ভাবার্থদীপিকাতে বলেছেন —অবতারদের মধ্যে কেউ পরমেশ্বরের অংশ-বিভূতি, কেউ বা কলা-বিভূতি।
মৎস্যাদি অবতারে সর্বজ্ঞত্ব ও সর্বশক্তি নিহিত
থাকলেও, তাদের মধ্যে সেই সেই অবতারের উপযোগী জ্ঞান ও ক্রিয়াশক্তির স্ফুরণ
হয়েছে। সনৎকুমারাদি এবং নারদাদি অবতারে তাঁদের উপযোগী জ্ঞান ও শক্তির প্রকাশ
হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুমারাদি অবতারে হয়েছে জ্ঞানের প্রকাশ এবং পৃথু প্রভৃতি অবতারে হয়েছে শক্তির প্রকাশ। কিন্তু "কৃষ্ণস্তু সাক্ষাৎ ভগবান্ নারায়ণ এব আবিস্কৃত সর্বশক্তিত্বাৎ"
কৃষ্ণই একমাত্র সাক্ষাৎ ভগবান নারায়ণ— যেহেতু তাঁর মধ্যে সর্বদাই সকল প্রকার শক্তির বিকাশ দেখা যায়।.....
শ্রীশুভ
চৌধুরী
আগস্ট
২৫, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।

No comments:
Post a Comment