সেই দেবাদিবের অষ্টমূর্ত্তিময় এই নিখিল জগৎ সেই অষ্টমূর্ত্তিতে, সূত্রে মণিগণের ন্যায় ব্যাপিয়া রহিয়াছে।
শর্ব্বো
ভবস্তথা রুদ্র উগ্রো ভীমঃ পশোঃপতিঃ।
ঈশানশ্চ
মহাদেবো মূর্ত্ত্যয়শ্চাষ্ট বিশ্রুতাঃ।।১৮
অর্থাৎ সেই সকল অষ্টসংখ্যক মূর্ত্তি শর্ব্ব, ভব, রুদ্র,
উগ্র, ভীম, পশুপতি, ঈশান ও মহাদেব এই আট নামে প্রসিদ্ধ। ১৮
সেই
শর্ব্বাদি অষ্টমূর্ত্তিই ক্ষিতি, জল, অনল, অনিল, আকাশ, ক্ষেত্রজ্ঞ, সূর্য্য ও চন্দ্রে
যথাক্রমে অধিষ্ঠান করিতেছেন। ইহা শাস্ত্রনিশ্চয় যে , পরমাত্মা শর্ব্বের পৃথিবী-রূপিণী
শর্ব্ব নামে মূর্ত্তি স্থাবর-জঙ্গমাত্মক বিশ্বকে ধারণ করিতেছেন। জল-রূপিণী ভব নামের
দ্বিতীয় মূর্ত্তি সমস্ত জগতের জীবন রক্ষা করিতেছেন। রুদ্রের অঘোর-রূপিণী শুভজনিকা তেজোময়ী রুদ্রাখ্যা
মূর্ত্তি জগতের বাহিরে ও অন্তরে ব্যাপিয়া অধিষ্ঠান করিতেছেন। বেধা উগ্রের পবনাত্মিকা
যে মূর্ত্তি এই বিশ্বকে স্পন্দিত করিয়া ধারণ করিতেছেন এবং স্বয়ং স্পন্দিত হইতেছেন,
পণ্ডিতেরা সেই মূর্ত্তিকে উগ্র নামে আখ্যায়িত করেন।
সকলের
অবকাশদায়িনী গগনময়ী ভীমের ভীমাখ্য মূর্ত্তি সকল ভূতের ভেদসাধন করত এই অখিল বিশ্বকে
ব্যাপিয়া রহিয়াছেন। সর্ব্বক্ষেত্র-নিবাসী সর্ব্ব-রূপী
ক্ষেত্রজ্ঞের অধিষ্ঠাত্রী পশুপতি নাম্নী ষষ্ঠমূর্ত্তি পশুদিগের পাশবন্ধন ছেদন করিতেছেন।
নিখিল জগতের দীপ্তিজনিকা দিবাকরস্বরূপা মহেশের ঈশানাখ্য মূর্ত্তি আকাশ ব্যাপিয়া অবস্থান
করিতেছেন। আর শিবের সোমময়ী মহাদেবাখ্য মূর্ত্তি সুধাংশু-বর্ষণে অখিল ভুবনের আনন্দোৎপাদন
করিতেছেন। ১৯-২৭
আত্মনশ্চাষ্টমী
মূর্ত্তিঃ শিবস্য পরমাত্মনঃ।
ব্যাপিকেতরমূর্ত্তীনাং
বিশ্বং তস্মাচ্ছিবাত্মকম্।২৮
অর্থাৎ
পরমাত্মা শিবের ঐ অষ্টম্ মূর্ত্তি স্বীয় অপরমূর্ত্তিগুলিকে ব্যাপিয়া আছেন বলিয়া, বিশ্ব
শিবাত্মক নামে প্রসিদ্ধ।২৮
-(শিবমহাপুরাণ,
বায়বীয়সংহিতা, উত্তরভাগ, মহেশস্যাষ্টমূর্ত্তিত্বকথন নামক চতুর্থ অধ্যায়)

No comments:
Post a Comment