শিব মহাপুরাণের বায়বীয় সংহিতার উত্তরভাগে পঞ্চাক্ষরমন্ত্রতত্ত্বনিরূপণং নাম দ্বাদশ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-
বেদে
ও শিবাগমে ঐ পঞ্চাক্ষর মন্ত্র ষড়াক্ষরে উক্ত আছে এবং লোকে পঞ্চাক্ষররূপে প্রকাশ পাইয়া
থাকে। সর্বজ্ঞ শঙ্কর সকল দেহীর অশেষ অর্থসিদ্ধি নিমিত্ত অল্পাক্ষর সমন্বিত হইলেও অর্থবহুল,
মুক্তিপ্রদ, নানা সিদ্ধিভূষিত, লোকচিত্তানুরঞ্জক, বিনিশ্চিতার্থ, সুখোচ্চার্য্য, বেদসার
'ॐ নমঃ শিবায়' এই আজ্ঞাসাধক অসন্দিগ্ধ দিব্য মন্ত্র
উপদেশ দিয়াছেন।
ঐ
সর্বশ্রেষ্ঠ আদিম ষড়াক্ষর মন্ত্র নিখিল বিদ্যার বীজ, বটবীজ-সদৃশ অতিসুক্ষ্ম মহান অর্থের
সাধন। ত্রিগুণাতীত সর্বজ্ঞ সর্বস্রষ্টা সর্বব্যাপী ভগবান্ শিব প্রণবরূপ একাক্ষর মন্ত্রে অধিষ্ঠান করিতেছেন। সূক্ষ্ম
ঈশানাদি একাক্ষর পাঁচটি মন্ত্র 'নমঃ শিবায়' এই মন্ত্রে যথাক্রমে অধিষ্ঠান করিতেছেন।
শিবাগমে
সেই ভগবান্ আদিমধ্যান্তশূন্য, স্বভাব-বিমল, পরিপূর্ণ, সর্বজ্ঞ ও প্রভুরূপে জ্ঞেয় হন।
ঐ মন্ত্র সেই শিবের অভিধান, সুতরাং তিনি সেই মন্ত্রের অভিধেয়, অতএব ঐপ্রকারে অভিধান-অভিধেয়
ভাব থাকাতে মন্ত্রও পরমপুরুষ শিব বলিয়া প্রসিদ্ধ। 'ॐ নমঃ
শিবায়' এতাবন্মাত্রই শিবজ্ঞান, এবং এতাবন্মাত্রই পরমপদ বলিয়া বিদিত হয়, যেহেতু ঐ ষড়ক্ষর
মন্ত্রকে শিব স্বয়ং বলিয়াছেন।
....................................................................................
তথ্যসূত্রঃ-
শিবপুরাণ, পঞ্চানন তর্করত্ন সম্পাদিত ও শ্রীজীব ন্যায়তীর্থ কর্তৃক পরিদৃষ্ট।

No comments:
Post a Comment