বিষ্ণুমহাপুরাণের প্রথমাংশের উনবিংশ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-সেই মহামতি প্রহ্লাদ সমুদ্রমধ্যে পর্ব্বতাচ্ছাদিত থাকিয়া আহ্নিক বেলায় একাগ্র চিত্তে অচ্যুতের স্তব করিতে লাগিলেন।-
প্রহ্লাদ
উবাচ।
নমস্তে
পুন্ডরীকাক্ষ নমস্তে পুরুষোত্তম।
নমস্তে
সর্ব্বলোকাত্মন্ নমস্তে তিগ্মচক্রিণে।৬৪
নমো
ব্রহ্মণ্যদেবায় গোব্রাহ্মণহিতায় চ।
জগদ্ধিতায়
কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।৬৫
অনুবাদঃ-প্রহ্লাদ
বলিলেন -হে পুন্ডরীকাক্ষ! তোমাকে নমস্কার। হে পুরুষোত্তম! তোমাকে নমস্কার। হে সর্ব্বলোকাত্মন্!
তোমাকে নমস্কার। হে তিগ্মচক্রিণে! তোমাকে নমস্কার।৬৪
গো-ব্রাহ্মণের
হিতকারী ব্রহ্মণ্যদেবকে নমস্কার; জগতের হিতস্বরূপ কৃষ্ণকে নমস্কার। গোবিন্দকে নমস্কার।৬৫...................................
এইভাবে
সর্বব্যাপী অনন্ত ভগবান অচ্যুতের স্তব ও ধ্যান করিতে করিতে অভেদজ্ঞানে প্রহ্লাদের অদ্বৈত
সিদ্ধি হইল এইভাবে-
সর্ব্বগত্বাদনন্তস্য
স এবাহমবস্থিতঃ।
মত্তঃ
সর্বমহং সর্ব্বং ময়ি সর্ব্বং সনাতনে।। ৮৫
অহমেবাক্ষয়ো
নিত্যংপরমাত্মাত্মসংশ্রয়ঃ।
ব্রহ্মসংজ্ঞোহহমেবাগ্রে
তথান্তে চ পুরঃ পূমান্।। ৮৬
অনুবাদঃ-
অনন্তের সর্ব্বব্যাপিত্বজন্য তিনিই আমি, আমা হইতে সমস্ত উৎপন্ন; আমিও সর্ব্বরূপে বর্তমান
এবং সনাতনরূপ আমাতেই লয় প্রাপ্ত হইবে।৮৫
আমিই
সৃষ্টির পূর্ব্বে অক্ষয়, নিত্য ও সমস্ত জীবাত্মার অধিষ্ঠাতা ব্রহ্মনামক পরমাত্মা এবং
আমিই শেষে পরমপুরুষ।৮৬
তৎপরে
বিংশঃ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে
পরাশর
উবাচ।
বং
সঞ্চিন্তয়ন্ বিষ্ণুমভেদেনাত্মনো দ্বিজ।
তন্ময়ত্বমবাপাগ্র্যং
মেনে চাত্মানমচ্যুতম্।।১
বিসস্মার
তথাত্মানং নান্যৎ কিঞ্চিদ্জানত।
অহমেবাব্যয়োহনন্তঃ
পরমাত্মেত্যচিন্তয়ৎ।।২
তস্য
তদ্ ভাবনাযোগাৎ ক্ষীণপাপস্য বৈ ক্রমাৎ।
শুদ্ধেহন্তঃকরণে
বিষ্ণুস্তস্থৌ জ্ঞানময়েহচ্যুতঃ।।৩
অনুবাদঃ-
পরাশর বলিলেন-হে দ্বিজ! শ্রীভগবান বিষ্ণুকে এইরূপে আপনা হইতে অভিন্ন ভাবিতে ভাবিতে
নিতান্ত তন্ময়ত্ব প্রাপ্ত হইয়া প্রহ্লাদ নিজেকে অচ্যুত মনে করিয়াছিলেন। তৎকালে তিনি
নিজেকে বিস্মৃত হইয়াছিলেন। বিষ্ণু ব্যতীত অন্য কিছুই জানিতে পারেন নাই এবং আমিই অব্যয়
অনন্ত পরমাত্মা এইরূপে চিন্তা করিয়াছিলেন। এইরূপ ভাবনাযোগে ক্রমে নিষ্পাপ (সমস্ত কর্ম্মবাসনারহিত)
হইলে, তাঁহার জ্ঞানময় শুদ্ধ অন্তঃকরণে অচ্যুত বিষ্ণু স্থিত হইয়াছিলেন।১,২,৩

No comments:
Post a Comment